সোডা-তেল-চিনি দিয়ে তৈরি দুধ, বিক্রি হয় দোকানে দোকানে
অভিযানে জব্দ করা হয়েছে দুই হাজার ৭০০ কেজি জেলি, তেল ও ভেজাল দুধ।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় কস্টিক সোডা, তেল, চিনি ও পানি মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরির একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসআই ও উপজেলা প্রশাসন।
এ সময় দুই হাজার ৭০০ কেজি জেলি, ২০০ লিটার তেল ও ৩২০ লিটার তৈরি ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় দুজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার সকালে উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামে আবুল বাশারের বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন- ওই গ্রামের আবুল বাশার ও তার সহযোগী সবুজ।
ভ্রাম্যমাণ আদালত আবুল বাশারকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করে। অন্যদিকে সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আবুল বাশারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ৩৬ ড্রাম জেলি উদ্ধার করা হয়, যার ওজন প্রায় দুই হাজার ৭০০ কেজি। এ ছাড়া ২০০ লিটার তেল এবং ৩২০ লিটার তৈরি ভেজাল দুধ পাওয়া যায়।
জব্দ করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আট লাখ টাকা। পরে সেগুলো ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।
ইউএনও সুরাইয়া মমতাজ বলেন, আবুল বাশার নিজের বাড়িতে ভেজাল দুধ তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। তাকে এ কাজে সহযোগিতা করতেন সবুজ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কারখানাটির সন্ধান পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, প্রথমে গরুর খাঁটি দুধ থেকে ক্রিম তুলে নেওয়া হতো। এরপর সাদা পানির সঙ্গে কস্টিক সোডা, সয়াবিন তেল ও চিনি মিশিয়ে ঘন ভেজাল দুধ তৈরি করা হতো। পরে এসব দুধ বাজারে বিক্রি করা হতো।
ইউএনও বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল খাদ্য তৈরি ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান, এনএসআইয়ের উপপরিচালক এবিএম লুৎফুল কবির, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. নুরুল ইসলাম এবং ভাঙ্গুড়া থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
