Published : 05 Oct 2023, 09:24 PM
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে টর্চলাইট দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের তিন দিনের মাথায় নিহত বৃদ্ধার স্বামী ও ছেলেকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ এই তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার বরিশালের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. মাহফুজুর রহমানের আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে নিহতের স্বামী জবানবন্দি দিয়েছেন বলে গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলালউদ্দিন জানান।
এদিকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার নিহতের ছোট ছেলে সুমন প্যাদা (৩২) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। পরে বিচারক বাবা ও ছেলেকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চরদিয়াসুর গ্রামে বাড়ির পাশে বাথরুম থেকে ৬৫ বছর বয়সি হেরোনার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হেরোনা ওই গ্রামের হায়দার আলী প্যাদার (৬৫) স্ত্রী।
এ ঘটনায় নিহত হেরোনা বেগমের ভাই মো. মনির হোসেন সিকদার হত্যা মামলা করেছেন।
পরিদর্শক হেলাল বলেন, “হায়দারের স্ত্রী তিনবার স্ট্রোক করেছিলেন। তারা ১৫ দিন বড় ছেলে এবং ১৫ দিন ছোট ছেলের ঘরে খেতেন। পারিবারিক কলহের জেরে সাত দিন ধরে বড় ছেলের ঘরে ভাত খাননি হেরোনা।
“২ অক্টোবর রাত ১টার দিকে স্ত্রীকে ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করেন হায়দার। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ক্ষোভে স্ত্রীর মাথায় টর্চলাইট দিয়ে আঘাত করেন হায়দার। এতে মাথা ফেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যায়।
“পরে হায়দার তার ছোট ছেলে সুমনকে ডেকে বিষয়টি জানালে তারা হেরোনার গলায় রসি বেঁধে বাথরুমে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে এলাকায় প্রচার করেন।”
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নিহতের দুই পুত্রবধূকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে বলে জানান পরিদর্শক হেলাল।