অতিরিক্ত টোল আদায়: ৯৯৯-এ ট্রাক চালকের ফোন, আটক ২
“এতদিন আমরা ১৫০ টাকা করে দিয়ে এসেছি। কিন্তু হঠাৎ করে তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা আদায় করা হয়।”
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় ট্রাক থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে এক ট্রাক চালকের অভিযোগ পাওয়ার পর রোববার রাত ১২টার দিকে পৌরসভার তৌমুরের মোড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
তারা সরকারি ভাবে নির্ধারিত ১২০ টাকা টোলের জায়গায় ট্রাক প্রতি জোর করে ৫০০ টাকা করে আদায় করছিল বলে পুলিশ জানায়।
আটকরা হলেন- রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম ও রকিবুর রহমান।
তারা ট্রাকের টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মুন ইন্টারপ্রাইজের’ পক্ষ থেকে টোল আদায় করছিলেন।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেন, “এ বছর গোদাগাড়ী পৌরসভার ট্রাক লোড-আনলোডের টোল আদায়ের ইজারা পায় রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার মুখলেসুর রহমান মুকুলের প্রতিষ্ঠান মেসার্স মুন ইন্টারপ্রাইজ। ইজারার নিয়ম অনুযায়ী রোববার পহেলা বৈশাখের দিন থেকে গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকায় ট্রাক লোড-আনলোডের টোল আদায় শুরু করে তারা।
“ইজারাদার জোতকসাই তৌমুরের মোড়ে বালুবোঝাই যানবাহনের টোল আদায় করে; সারেংপুর ঘাট থেকে বালুগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় ইজারাদারের লোকজন সরকারি ভাবে নির্ধারিত ট্রাক প্রতি ১২০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা এবং ট্রলি প্রতি ৩০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা আদায় করে।”
জোর করে অতিরিক্ত টোল আদায় করায় এক ট্রাক ড্রাইভার ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে অভিযোগ দেন। পরে দুইজনকে আটক করা হয় বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
ওসি বলেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাকিব নামের এক ট্রাক চালক বলেন, “১২০ টাকা সরকারি রেট হলেও এতদিন আমরা ১৫০ টাকা করে দিয়ে এসেছি। কিন্তু নতুন বছরের প্রথম দিন হঠাৎ করে তা বাড়িয়ে জোরপূর্বক ৫০০ টাকা আদায় করা হয়।
“ফলে ট্রাক ড্রাইভাররা বাধ্য হয়ে ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ দেন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইজারাদার মুখলেসুর রহমান মুকুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি।
মুকুলের টোল আদায় দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মো. বাবু বলেন, “ইজারাদার যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, কর্মচারীরা সেভাবেই টোল আদায় করেছেন। এ বিষয়ে ইজারাদার ভাল বলতে পারবেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।”
গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র অয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, “জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রাক প্রতি ১২০ টাকা ও ট্রলি প্রতি ৩০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি টোল আদায় করা যাবে না।”
যদি ইজারার শর্ত অমান্য করে অতিরিক্ত টোল আদায় করে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
