Published : 22 Jul 2023, 04:43 PM
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব উল্লেখ করে সংবিধানের বাইরে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে কলুষিত করার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে তিনি বলেন, “এখন তারাই আবার সেই ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায় যাতে আবার তারা আবার মানুষকে ধোঁকা দিতে পারে।”
শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার টাউন হল অডিটোরিয়ামে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ হবে `স্মার্ট বাংলাদেশ’, সেখানে সবকিছুই স্মার্ট হবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “একটা সময় বাংলাদেশ ছিলো হতদরিদ্র, মিসকিন আর ভিক্ষুকের দেশ। বঙ্গবন্ধু উন্নত দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা।”
বাংলাদেশের সকল ইতিবাচক অর্জন আওয়ামী লীগের অধীনে হয়েছে উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম বলেন, “ইতিবাচকতার এই ধারা বজায় রাখতে হবে দেশের ও মানুষের স্বার্থে।”
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে উন্নয়নের জন্য বঙ্গবন্ধুর গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে মাত্র সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু যে যে অগ্রগতি অর্জন করেছিলেন তা ছিল অকল্পনীয়। অথচ নিন্দুকেরা এখন তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার অর্জনকে যে রকম অস্বীকার করছে ঠিক একইভাবে বঙ্গবন্ধুর অর্জনকেও তখন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।”

মন্ত্রী আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগের মধ্যে গ্রুপিং বা বিভাজন থাকলে সেই সুবিধা পুঁজি করে বিরোধীরা দেশে অরাজকতা এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাবে।”
তাজুল ইসলাম বলেন, “বিএনপির রাজনীতিতে হত্যা ও সন্ত্রাস ছাড়া আর কি অর্জন রয়েছে তা মানুষ জানে না।
“এমনকি তারা জননেত্রী শেখ হাসিনাকেও হত্যা করার চেষ্টা করতে পিছপা হয়নি, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের ১৭জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয় আর অসংখ্য নেতা-কর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করেন। বিএনপির রাজনীতি হত্যার রাজনীতি তা প্রমাণিত। ”
মন্ত্রী তাঁর নিজের জেলা কুমিল্লাকে নিয়ে বলেন, “কুমিল্লার মানুষ হিসেবে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। কুমিল্লা শহরের উন্নয়নে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন কাজগুলো যেন পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়- সেদিকে সকলকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ”
কুমিল্লা জেলায় পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য কুমিল্লা ওয়াসার প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে জানিয়ে বলেন, আধুনিক ও উন্নত কুমিল্লা জেলার জন্য এটি একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান বাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা আহম্মদ মেরী, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র আরফানুল হক রিফাত, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জামাল নাছের, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, পুলিশ সুপার মো. আব্দুল মান্নান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাসিমা আক্তার, জেলা পিপি জহিরুল ইসলাম সেলিম, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর খান।