Published : 19 Aug 2023, 09:28 PM
হবিগঞ্জে পদযাত্রার সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার বিকালে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর চিড়িয়াখানা সড়ক এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহস্রাধিক রাবার বুলেট ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। ২ ঘণ্টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় নেতাদের দাবি, সংঘর্ষে হবিগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম আউয়াল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাহবুবসহ বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
পুলিশ বলছে, বিএনপির নেতাকর্মীদের ইটপাটকেলে সদর থানার ওসি অজয় চন্দ্র দেবসহ তাদের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পদযাত্রার জন্য বিকালে বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে জমায়েত হতে থাকেন। যদিও আগে থেকেই জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ও আশাপাশে বিপুল পুলিশ মোতায়েন ছিল।
বিকাল ৫টার দিকে শায়েস্তানগর এলাকা থেকে ছাত্রদলের ব্যানারে একটি বিশাল মিছিল শহরের দিকে এগোলে পুলিশ প্রধান সড়ক থেকে মিছিলকারীদের দলীয় কার্যালয়ের রাস্তায় নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের বাধা না মেনে প্রধান সড়কে মিছিল করতে চাইলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পুলিশ মিছিলটিকে ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও কাঁদুনে গ্যাস ছোড়া শুরু করে।
বিএনপির নেতাকর্মীরাও রাস্তার পাশে রাখা নির্মাণ কাজের পাথরের স্তূপ থেকে পাথর নিয়ে পুলিশের দিছে ছুড়তে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, এ সময় ট্র্যাফিক পয়েন্ট ও শায়েস্তানগর তেমুনিয়া এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে দেন এবং পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। তখন নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয় পুলিশ।
সংঘর্ষের সময় ওই এলাকার লোকজন দিকবিদিক ছুটতে থাকেন। বন্ধ হয়ে যায় রাস্তার পাশের দোকান-পাট।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেনের দাবি, পুলিশের গুলিতে তাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম আব্দুল আউয়াল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মুর্শেদ আহমেদ সাজন এবং মিজান শাহের অবস্থা গুরুতর।
বিএনপির ১০-১৫ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করার দাবিও করেন আফজাল হোসেন।
সন্ধ্যার আগে বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় পুলিশের বাধার মুখেই বিএনপি কার্যলয়ের সামনে চলে দলের কর্মসূচি।
কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে গউছসহ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেন।
হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের নির্দিষ্ট স্থানে না গিয়ে শহরের প্রধান সড়কে মিছিল করে হট্টগোল সৃষ্টির চেষ্টা করে। তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। তাদের হামলায় হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি অজয় চন্দ্র দেবসহ বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।
তবে কী পরিমাণ রাবার বুলেট ও কাঁদুনে গ্যাস ছোড়া হয়েছে সে হিসাব এখনও করা হয়নি বলে জানান খলিল।
আরও পড়ুন: