Published : 09 Nov 2022, 11:24 AM
মেঘনা নদীতে জলদস্যুদের হামলায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার তিন জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন; এ সময় এক জেলেকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রামগতি ও ভোলার দৌলতখান উপজেলার সীমান্ত এলাকা চরআবদুল্লাহ ইউনিয়নের পশ্চিম পাশের নদীতে এ ঘটনা ঘটে বলে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফেরদৌস আহমেদ বুধবার সকালে বলেন, “ভোলার দৌলতখান এলাকার মেঘনা নদীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রাতেই আমরা ঘটনাটি শুনেছি।“
আহতরা হলেন- কমলনগর উপজেলার চরফলকন এলাকার তসির আহম্মদের ছেলে মো. আব্বাস মাঝি (২৮), রামগতি উপজেলার পশ্চিম চরকলাকোপা গ্রামের মো. ইউনুসের ছেলে মো. ইউসুফ (২৭) এবং নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার আলমগীর ফরাজীর ছেলে মো. ফারুক (৩৫)।
তিনজনই লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা জানান, তাদের নৌকা থেকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার নানু ফরাজীর ছেলে মহিউদ্দিনকে (৩৫) ডাকাত দলের সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে।
আহত আব্বাস মাঝি সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার রাতে ছয় জেলে নৌকা নিয়ে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। জাল ফেলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় জলদস্যুরা নৌকা লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন।
এর মধ্যে আব্বাস ও ইউসুফের বাম হাতে গুলি লেগেছে। আর ফারুকের ডান পায়ের ওপরের অংশে ও ডান হাতে গুলি লেগেছে।
খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে কমলনগর উপজেলার লুধুয়া মৎস্যঘাট এলাকার আড়ৎদাররা ঘটনাস্থল যান এবং আহতদের উদ্ধার করে রাত ৪টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
আহত আব্বাস মাঝি বলেন, “নৌকা থেকে দস্যুরা আমাদের সহকর্মী মহিউদ্দিনকে নিয়ে গেছে।“
কমলনগর উপজেলার লুধুয়া মৎস্য ঘাটের আড়ৎদার মো. লিটন সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যরাতে আব্বাস মাঝির নৌকাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই মাঝিরা ঘাটে খবর পাঠায়।
“রাতেই বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুছ ও আলেকজান্ডার কোস্ট গার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ডারকে (সিসি) জানানো হয়। তারপর মাছ ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আহত জেলেদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে,” যোগ করেন লিটন।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক এ কে আজাদ বলেন, তিনজন গুলিবিদ্ধ রোগী এসেছেন। তাদেরকে ভর্তি রাখা হয়েছে। তারা আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।