আসাদ আলম সিয়ামকে হাই কমিশনার করে পাঠাচ্ছে ঢাকা, সায় মিলল দিল্লির
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি নয়া দিল্লিতে বর্তমান হাই কমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে দিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাই কমিশনার করার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তাতে ভারতের সায় মিলেছে।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের মুখপাত্র সাইদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, মঙ্গলবার দুপুরে এক ইমেইলে তাকে দিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাই কমিশনার করার বিষয়ে ‘অ্যাগ্রিমোঁ’ বা আনুষ্ঠনিক সম্মতিপত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে লিখেছিল, দিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাই কমিশনার হিসেবে সিয়ামের নিয়োগে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিতে দেরি করছে ভারত।
এর মধ্যেই তার বিষয়ে ভারতের সম্মতি পাওয়া গেল।
১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়া পেশাদার কূটনীতিক আসাদ আলম সিয়াম আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নয়া দিল্লিতে বর্তমান হাই কমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন।
রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে জেনিভায় পাঠাচ্ছে সরকার।
২০২৫ সালের জুনে পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে এক বছরেরও কম সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন আসাদ আলম সিয়াম।
এর আগে ২০২৩-২০২৪ সময়ে তিনি অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ২০১৭-২০২১ সময়ে ফিলিপিন্সে দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাই কমিশনার এবং ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে জুনিয়র কূটনীতিক হিসেবে কাজ করেছেন সিয়াম।
দেশে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল প্রধান, ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্রসচিবের দপ্তরের পরিচালক ছিলেন।
ভারত সাবেক মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীকে হাই কমিশনার করে ঢাকায় পাঠানোর পর দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার হিসেবে সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা।
২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়।
চলতি বছর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয় দুই পক্ষ। কিন্তু ভারতে শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলন পরিস্থিতি আবার জটিল করে তোলে।
দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। কিন্তু বাংলাদেশ ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়নি। দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়েও থামকে আছে।
এই পরিস্থিতিতে সিয়ামের অন্যতম দায়িত্ব হবে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় কাজ করা। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতিতেও তাকে ভূমিকা রাখতে হবে।
আরও পড়ুন:
সম্পর্কে টানাপোড়েন: আটকে আছে দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাই কমিশনারের অনুমোদন
