সরকারি হাসপাতালের আশেপাশে বেসরকারি ক্লিনিকের অনুমোদন হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা বলেছেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
দেশের সরকারি হাসপাতালের আশেপাশে নতুন করে কোনো বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হবে না বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, “সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মত ক্লিনিকগুলো গজিয়ে উঠেছে। দুর্নীতির আশ্রয়ে, লিয়াজো করে এগুলো করা হয়েছে। আমরা আর নতুন করে সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমতি দেব না। বর্তমান যেগুলা আছে তাদের কার্যক্রম তদারকি করা হবে। মানসম্মত সেবা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের অনুমোদন বাতিল করা হবে।”
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিবদর্শন করে রোগীদের খোঁজ-খবর নেন।
মন্ত্রী বলেন, “উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। কোনো ক্লিনিকে নিজস্ব চিকিৎসক, টেকনিশিয়ানসহ জনবল না থাকলে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও বিভিন্ন অভিযানে কিছু ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও পরিচালনা করা হবে।”
উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম থাকা সত্ত্বেও সাপের দংশনে কেন রোগী মারা যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “রোগীটি বিষধর সাপের দংশনে আক্রান্ত কি না তা বোঝার জন্য কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। অনেক সময় হাসপাতালে আসতে দেরি করায় রোগীর অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। তাই সাপ দংশনের সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসুন। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।”
ডেঙ্গুর বিষয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান দেশে যে ডেঙ্গুর প্রভাব সেটা মূলত মশাবাহিত। এর চিকিৎসা বিশ্বব্যাপী নেই। তবে এই রোগের জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইন প্রতিটি উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকের ডেঙ্গু প্রটোকল পাঠানো হচ্ছে।
“ডেঙ্গুর একটা পর্যায়ে রক্তের প্লাজমা লিকেজ হয়। এটা যাতে না হয় সেটি দেখতে হবে। জ্বর শেষ হলেও রোগীদের চার দিন অবজারভেশনে রাখতে হবে। প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ভালো নজর রাখতে হবে। আর প্রটোকলের নির্দেশনা সবার কাছে পাঠানো হচ্ছে।’’
পরিদর্শনকালে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, গজারিয়ার ইউএনও উম্মে হাফছা নাদিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন তিথি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নুসরাত ফারজানা খানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
