‘বাণিজ্যমন্ত্রীর এপিএস’ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ

রাশেদ নামের এই ব্যক্তি মোবাইলের নগদ একাউন্টে ১৯ হাজার টাকা নেন পরে হোটেল বিলের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলে। এরপর ফোন বন্ধ করে দেন।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 August 2022, 12:38 PM
Updated : 5 August 2022, 12:38 PM

‘বাণিজ্যমন্ত্রীর এপিএস’ পরিচয় দিয়ে সিরাজগঞ্জ শহরে এক হোটেল মালিকের ১৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগে মোস্তফা কামাল নামের ওই হোটেল মালিক বৃহস্পতিবার রাতে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

মোস্তফা কামাল সিরাজগঞ্জ থেকে প্রকাশিত স্থানীয় দৈনিক ‘যমুনা প্রবাহ’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং শহরের বাজার স্টেশন এলাকার আবাসিক হোটেল ‘যমুনা বিলাস’-এর মালিক।

মোস্তফা কামালের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে রাশেদ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনসীর এপিএস পরিচয় দিয়ে এই ফোন করেন। ফোনে রাশেদ নামের ওই ব্যক্তি বলেন, সিরাজগঞ্জের উন্নয়নে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের একটি টিম শুক্রবার (৫ অগাস্ট) সিরাজগঞ্জ আসবে। তাদের জন্য ভিআইপি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, টিমে দেশি-বিদেশি লোকজন রয়েছেন; তারা পাঁচ দিন সেখানে থাকবেন। এজন্য অভিজাত আবাসিক হোটেল বুকিং ছাড়াও আরও ৫০ জনের জন্য চার দিনের খাবারের অগ্রিম অর্ডার দিতে হবে।

“এসব কথা বলার এক পর্যায়ে রাশেদ এক ব্যক্তির হাতে ফোন ধরিয়ে দিয়ে বলেন – মন্ত্রী স্যারের সাথে কথা বলুন। ওই কণ্ঠস্বর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশীর সাথে হুবহু মিল ছিল। মন্ত্রী পরিচয় দানকারী ব্যক্তিও হোটেল বুকিংয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেন।”

মোস্তফা বলেন, এরপর তাদের কথামতো শহরের একটি অভিজাত হোটেলের ১২টি কক্ষ পাঁচ দিনের জন্য বুকিং দেওয়া হয় এবং অভিজাত হোটেলে খাবারের অগ্রিম অর্ডার করা হয়। বিল আসে প্রায় ৫ লাখ টাকা। হোটেল মালিক খাবারের অগ্রিম টাকা দাবি করলে বিষয়টি এপিএস পরিচয় দানকারী রাশেদকে জানানো হয়। ওই সময় রাশেদ আরেকটি মোবাইল নম্বর দিয়ে বলেন – ‘উনি বাণিজ্য সচিব শহিদুল ইসলাম, উনার সাথে কথা বললে টাকা পেয়ে যাবেন।’

“ওই নম্বরে ফোন দিলে নিজেকে সচিব পরিচয় দিয়ে বলেন – মন্ত্রী স্যার আপনার ব্যাপারে আমাকে অবগত করেছেন।”

মোস্তফার অভিযোগ, এরপর তিনি টাকা পাঠানোর জন্য আমার ব্যাংক একাউন্ট নম্বর চাইলে সেটি দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন – ‘সরকারি টাকা যাবে; এজন্য কিছু ফি দিতে হবে, আপনি ১৯ হাজার টাকা দেন, স্যাররা গেলে সমন্বয় করে নিয়েন। আজই (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় আমাদের একজন প্রতিনিধি আপনার সাথে দেখা করবে।’

“এরপর সচিব পরিচয়দানকারী ব্যক্তির মোবাইলের নগদ একাউন্টে ১৯ হাজার টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু আমার ব্যাংক একাউন্টে কোনো টাকা না ঢোকায় দুই ঘণ্টা যোগাযোগ চলতে থাকে। তারা শুধু আশ্বাস দিতে থাকেন, কিন্তু কোনো টাকা পাঠাননি। এক পর্যায়ে তারা নিজেদের মোবাইলগুলো বন্ধ করে দেন।”

মোস্তফা কামাল বলেন, এর আগেও ফোন পেয়ে বহু মানুষের বহু কাজ করে দিয়েছি; কোনো অসুবিধা হয়নি। এবার বিষয়টি অন্য রকম হলো। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই সদর থানায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি হুমায়ন কবির বলেন, “মোস্তফা কামাল একজন সচেতন মানুষ হয়েও প্রতারিত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। প্রতারক চক্রটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক