মধ্যরাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের বিক্ষোভ

দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে রাত আড়াইটায় হলে ফিরেন শিক্ষার্থীরা।

খুলনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 August 2022, 04:02 AM
Updated : 17 August 2022, 04:02 AM

রান্নার জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সরানোর নির্দেশের প্রতিবাদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিতা হলের শিক্ষার্থীরা মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছেন।

টানা প্রায় চার ঘণ্টা বিক্ষোভের পর কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নিলে মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যান।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিতা হলের এক ছাত্রী তরকারি কাটার বটি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি বেঁচে যান।

এ ঘটনার পর হলের ছাত্রীদের রান্নার ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম (রাইস কুকার, হিটার) সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, যার কক্ষে এসব সরঞ্জাম পাওয়া যাবে তার সিট বাতিল করা হবে।

এ নিয়ে ছাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর জের ধরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অপরাজিতা হলের একদল ছাত্রী ফটকের তালা ভেঙে বাইরে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেসা মুজিব হলের ছাত্রীরা। একপর্যায়ে ছাত্রদের হলের শিক্ষার্থীরাও একাত্মতা প্রকাশ করে ছাত্রীদের সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় হলের প্রাধ্যক্ষ, সহকারী প্রাধ্যক্ষরা ছাত্রীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ধমক দিয়ে কথা বলেন। কারণে অকারণে সিট বাতিলের হুমকি দেন।

কিছু দিন আগে ফেইসবুকে কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে এক ছাত্রীকে ৪৫ মিনিট ধরে ধমক এবং শাসানো হয়। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জানালে সমাধান না করে উল্টো শাসানো হয়। এসব কারণে বেশ কিছু দিন ধরে অপরাজিতা হলের ছাত্রীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন।

রাত ১১টার দিকে অপরাজিতা হলের সামনে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও সহকারী পরিচালকরা। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সেখানে আসেন অপরাজিতা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক রহিমা নুসরাত রিম্মি। তিনি ছাত্রীদের হলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাস দেন।

এ সময় বিক্ষোভরত ছাত্রীরা ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- হলে রাইস কুকার ও রান্নার সরঞ্জামাদি ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যৌন হয়রানির প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগত আক্রমণের জন্য প্রাধ্যক্ষকে ক্ষমা চাইতে হবে, হলে প্রয়োজনে অভিভাবক ও নারী আত্মীয়দের থাকার অনুমতি দিতে হবে, হলে পানি ও খাবারের সমস্যার সমাধান করতে হবে, হল প্রাধ্যক্ষ তার নিজ ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) ছাত্রীদের ডেকে ব্যক্তিগত ও একাডেমিক বিষয়ে হয়রানি করতে পারবেন না, হলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, সিট বাতিলের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং হলের ছাত্রীদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে।

প্রায় চার ঘণ্টা বিক্ষোভের পর ছাত্রীদের দাবি মেনে নেওয়া হয়। রাত ২টার দিকে দাবি সম্বলিত নোটিশে হল প্রাধ্যক্ষ ও প্রাধ্যক্ষ বডির সদস্যরা সই করেন। ছাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন অপরাজিতা হলের সহকারী প্রাধ্যক্ষ মাহফুজা খাতুন।

পরে মেনে নেওয়া দাবি পড়ে শোনান বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সালমা বেগম। এরপর রাত আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যান।

পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অপরাজিতা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক রহিমা নসরাত রিম্মি। এ সময় তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতো। আমরা চাই না, তাদের কোনো কষ্ট হোক। তাদের সবগুলো দাবি আমরা মেনে নিয়েছি। তারা যে সমস্যাগুলোর কথা বলেছে, সেগুলোও আমরা সমাধান করছি এবং চেষ্টা অব্যাহত আছে।”

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. শরীফ হাসান লিমন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে রাত আড়াইটার দিকে বিক্ষোভ বন্ধ করে হলে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক