সবকিছুর ওপরে মানবতাকে স্থান দিতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি দাবি করেন, “পৃথিবীতে একমাত্র বাংলাদেশই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে চারটি ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়।”
সবকিছুর ওপরে মানবতাকে স্থান দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।
তিনি বলেছেন, “২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সম্পদশালী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা, প্রধানমন্ত্রী সে হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। সেজন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। সংবিধানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকারের কথা বলা রয়েছে।”
শনিবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সিলেট বিভাগের পুরোহিত-সেবাইত সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, “সরকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে চারটি ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়।”
সব মানুষ মহান সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সব ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও বিশ্বাসকে ভিত্তি করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”
এসময় সিলেট সদর ও নগর এলাকার ২১টি মন্দিরে উন্নয়নের জন্য ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যে মন্দির-মসজিদে ব্যক্তি উদ্যোগে দান করা হয় দাবি করে তিনি বলেন, “আমার জানা মতে, বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশই এক মাত্র দেশ, যেখানে ধর্মের জন্য সরকারি দপ্তর থেকে খরচ হয়।”
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ধর্মীয় ও আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরোহিত ও সেবাইতদের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) অধীনে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রকল্পের পরিচালক শিখা চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আব্দুল হামিদ জমাদ্দার।
ছিলেন হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অশোক মাধব রায়, পি কে চৌধুরী ও সচিব কৃষ্ণেন্দু কুমার পাল।
আয়োজকেরা জানান, সারা দেশের ৪১ হাজার ২১৬ পুরোহিত-সেবাইতদের নেতৃত্বর সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরির জন্য প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
