Published : 23 Apr 2023, 07:07 PM
ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় ময়মনসিংহে ঈদের আগের ভোররাতে দুই অটোরিকশা চালককে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন পরস্পরের বন্ধু; তিনজনই পেশাদার ছিনতাইকারি এবং মাদকাসক্ত বলে পুলিশের ভাষ্য।
রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার–এসপি মাছুম আহাম্মদ ভূঞা এসব কথা জানান।
এ খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তাররা হলেন ময়মনসিংহ নগরীর গোহাইলকান্দির অনন্ত কুমার দে (১৯), মামুন (১৯), কাজী মো. মাহিন বাদশা (১৯)।
এদের মধ্যে মামুন নগরীর সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ও অনন্ত কুমার দে কর্মাস কলেজের শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, সদর উপজেলার দাপুনিয়া বাজারের চাঁন মিয়ার ছেলে অটোরিকশা চালক সাদেক মিয়া (৩৫), একই উপজেলার চর ঘাগড়া এলাকার আক্কাস আলীর ছেলে রিকশা চালক হাবিবুর রহমান (৫১) ঈদের আগের রাতে গাড়ি চালাতে বের হন।
ঘটনার বিবরণে তিনি বলেন, মধ্যরাতে তিন ছিনতাইকারী গাঙ্গিনারপাড় থেকে সাদেক মিয়ার অটোরিকশা ভাড়া করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। এক পর্যায়ে ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে গোহাইলকান্দি গিয়ে তারা সাদেক মিয়ার টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। সাদেক মিয়া বাধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর টাকা নিয়ে চলে যায়। এরপর আবার গাঙ্গিনারপাড়ে আসে।
এসপি আরও বলেন, গাঙ্গিনারপাড় থেকে আবার হাবিবুর রহমানের রিকশা ভাড়া করে ভোররাত সাড়ে ৫টার দিকে বিপিন পার্কের বিপরীতে ডিএন চক্রবর্তী রোডে আসে। সেখানে এসে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে হাবিবুর রহমানও বাধা দেয়। তখন তারা হাবিবুর রহমানকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এসপি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ভিডিও দেখে ঈদের দিন বিকাল ৩টার দিকে গোহাইলকান্দির জামতলা ও কাশর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন ‘ছিনতাইকারীকে’ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে আলামত হিসেবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও রক্তমাখা জামা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, তিনজনই পেশাদার ছিনতাইকারী ও মাদকাসক্ত। তারা একসঙ্গে চলাফেরা করত। ঘটনার দিন ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে শহরের গাঙ্গিনারপাড় আসে। এর আগে তিনজন মাদক গ্রহণ করে এবং এসব হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
“গ্রেপ্তারদের মধ্যে অনন্ত কুমার দের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। অপর দুইজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
এ দুই হত্যার ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক হত্যা থানা মামলা দায়ের হয়েছে; গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
আরও পড়ুন