ফসল রক্ষায় ইঁদুর মেরে লেজ জমা দিলে মিলবে ১০ টাকা

“এখন বোরো ধানের শীষ বের হচ্ছে। কিন্তু ইঁদুরের অত্যচারে নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করেও ইঁদুর দমন করা যাচ্ছে না।”

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 March 2024, 09:47 AM
Updated : 22 March 2024, 09:47 AM

বোরো ধান রক্ষায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ইঁদুর নিধন অভিযান শুরু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। 

উপজেলার গোপালপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার ‘ইঁদুর দমন উদ্বুদ্ধকরণের জন্য মতবিনিময়‘ সভা থেকে এ ঘোষণা আসে বলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম জানান। 

ইঁদুর ফসল নষ্ট করায় ধানের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকদের কপালে ভাঁজ পড়েছে। তারা বলছেন, বোরো ধান টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কৃষককের প্রধান ফসল। বোরো আবাদ শেষে ক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিয়েছিল। কীটনাশক প্রয়োগ করে সেটি তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও ইঁদুরের উৎপাত থামানো যাচ্ছে না।  

উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের পাকুড়তিয়া বিল, পাটগাতী ইউনিয়নের গিমাডাঙ্গার বিল ও গোপালপুর বিলসহ কয়েকটি বিলের ধান গাছের নিচের অংশ খেয়ে ফেলেছে ইঁদুর। ইঁদুরে কাটা গাছ মরে যাচ্ছে। ক্ষেতে বিষমাখা টোপ, আতপ চালের টোপ এবং ফাঁদ পেতেও কৃষকরা ইঁদুর নিধনে ব্যর্থ হচ্ছেন। 

এ অবস্থায় ফসল রক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ইঁদুর দমনে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পাশাপাশি  মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছেন তারা। এছাড়া আগামী ১৩ এপ্রিলের এর মধ্যে ইঁদুর মেরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসে লেজ জমা দিলে লেজ প্রতি ১০ টাকা দেওয়ার ঘোষণাও এসেছে তাদের কাছ থেকে।   

গিমাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, “বিলবেষ্টিত টুঙ্গিপাড়ায় এক ফসলি বোরো ধানের জমিই বেশি। এ ধানই আমাদের প্রধান ফসল। ইঁদুর থেকে ফসল রক্ষায় বাঁশের কঞ্চি গেড়ে তাতে পলিথিন টাঙিয়ে দিয়েছি। আবার অনেকে ক্ষেতের চারপাশে ইঁদুর মারার ফাঁদ তৈরি করে রেখেছেন। কেউ কেউ খাবারে বিষ মিশিয়ে ক্ষেতের চারপাশে রেখে দিয়েছেন।

“কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ইঁদুর ধান গাছের গোড়া কেটে দিচ্ছে; এতে গাছ মরে যাচ্ছে। ইঁদুরের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।” 

পাকুড়তিয়া গ্রামের চাষি মিলু মুন্সী বলেন, “চার বিঘা জমিতে গত বছর দুইশ থেকে আড়াইশ মণ ধান পেয়েছিলাম। সেই জমিতে এবার একশ থেকে দেড়শ মণ ধান হবে বলেও মনে হচ্ছে না। ইঁদুর আমাদের সব শেষ করে দিচ্ছে।” 

গোপালপুরের কৃষক বরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলছেন, এখন বোরো ধানের শীষ বের হচ্ছে। কিন্তু ইঁদুরের অত্যচারে নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করেও ইঁদুর দমন করা যাচ্ছে না। 

“কষ্টের ফসল রক্ষা নিয়ে চিন্তায় পড়েছি। এই ফসল রক্ষা করতে না পারলে সারা বছর চাল কিনে ক্ষেতে হবে।” যোগ করেন তিনি। 

চলতি মৌসুমে টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ৮ হাজার ৬’শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬১ হাজার ৯২০ মেট্রিকটন ধরা হয়েছে বলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম জানান। 

চলতি বোরো মৌসুমে ইঁদুরের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ইঁদুর দমনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে মতবিনিময় সভা, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা ইঁদুর দমনের নতুন কৌশল জানাচ্ছি।” 

“এছাড়া আগামী ৩০ চৈত্র পর্যন্ত ইঁদুর মেরে লেজ জমা দিলে প্রতিটি লেজের জন্য ১০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছি। উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা লেজের হিসাব রাখবেন। এ টাকা ৩০ চৈত্রের পরে কৃষকের বুঝিয়ে দেওয়া হবে।” 

এখন পর্যন্ত ইঁদুরের কারণে কত ধানের ক্ষতি করেছে? জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল বলেন, “সেটা এখনও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন ।“