‘প্রার্থীকে অপহরণ-মারধর’: সিংড়ার রুবেলকে আওয়ামী লীগের শোকজ
শোকজের বিষয়টি অবগত বলে জানিয়েছেন নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান।
নাটোরের সিংড়ায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অপহরণ ও মারপিটের অভিযোগ আসার পর আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফুল হাবিব রুবেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
শুক্রবার বিকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে এই শোকজ করা হয়।
শোকজের বিষয়টি অবগত বলে জানিয়েছেন নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান।
লুৎফুল হাবিব রুবেল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের এই শ্যালক এবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন।
সোমবার বিকালে নাটোর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে থেকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় একদল লোক। কয়েক ঘণ্টা পর তাকে বাড়ির সামনে ফেলে যায় তারা।
এ ঘটনায় দেলোয়ারের পরিবার শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছেড়ে উপজেলায় নির্বাচন করতে আসা রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন:
এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেলোয়ার হোসেনকে দেখতে যান।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এ ঘটনায় আমি লজ্জিত, দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনার খোঁজখবর রাখছেন। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের সুষ্ঠু বিচার হবে। কেউ ছাড়া পাবে না।”
এর কিছু পরেই রুবেলকে দল থেকে শোকজের বিষয়টি সামনে আসে।
কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, “গত ১৫ এপ্রিল নাটোর জেলা নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে থেকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণ ও মারপিট করে জখমের ঘটনা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
“গ্রেপ্তার সুমন আহমেদ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ঘটনার সাথে আপনার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, যা দলীয় আচরণবিধি পরিপন্থির সামিল। এমত অবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার জবাব আগামী তিন দিনের মধ্যে নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণের নিকট লিখিতভাবে জানানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।”
নির্ধারিত সময়ে জবাব না দিলে লুৎফুল হাবিব রুবেলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে বৃহস্পতিবার লুৎফুল হাবীব রুবেলকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
