আরসা প্রধানকে ধরিয়ে দিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বার্মিজ ভাষার পোস্টার

মোট ২৮ জনকে ধরিয়ে দিতে এই পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।

কক্সবাজার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Jan 2023, 03:17 PM
Updated : 21 Jan 2023, 03:17 PM

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার প্রধানসহ সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দিতে বার্মিজ ভাষায় পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।  

এসব পোস্টারে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীসহ ২৮ শীর্ষ সন্ত্রাসীর ছবি ও নাম দেওয়া হয়েছে। ছবিতে কাউকে কাউকে অস্ত্রসহও দেখা গেছে।  

শনিবার সকাল থেকে উপজেলার কুতুপালং ও বালুখালীর বিভিন্ন ক্যাম্পে এ ধরনের পোস্টার দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা। তবে পোস্টারটি কারা সাঁটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮-আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আমির জাফর সাংবাদিকদের বলেন, “সন্ধ্যা ৭টায় ক্যাম্পের ভিতর পোস্টার দেখা গেছে। পোস্টার বিভিন্ন ক্যাম্পে দেওয়া হয়েছে সেটা সঠিক।“

পোস্টার কারা লাগিয়েছে জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “এপিবিএন তা প্রকাশ করেনি। পোস্টারে থাকা ব্যক্তিরা কোনো মামলার আসামি হয়ে থাকলে তাহলে তাদের যে কোনোভাবে গ্রেপ্তার করা হবে।“

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মাঝখানের শূন্যরেখায় গত কয়েকদিন ধরেই তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশনের (আরএসও) এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যদের মধ্যে এ গোলাগুলি ঘটছে বলে কমিউনিটি নেতারা জানিয়েছেন।

এ সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন; একজন গুলিবিদ্ধ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গোলাগুলির মধ্যে শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে ক্যাম্পের শত শত বসতঘর ভস্মীভূত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা তুমব্রুর স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

এর মধ্যেই রোহিঙ্গা সশস্ত্র বাহিনীর নেতা ও সদস্যদের ধরিয়ে দিতে উখিয়ার ক্যাম্পে পোস্টার লাগানো হলো। বালুখালীর ১১, ১২, ১৮ ও ১৯ নম্বর ক্যাম্পে এসব পোস্টার বেশি দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন ক্যাম্পের বাসিন্দারা।

৮-এপিবিএন এর সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ বলেন, “দুপুরের দিকে ২৮ জন রোহিঙ্গা চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পোস্টার সাঁটাই করার বিষয়টি পুলিশ স্থানীয়দের মাধ্যমে জেনেছি।“

“স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুক্রবার গভীর রাতে কোনো এক সময় পোস্টারগুলো বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাঁটানো হয়েছে। তবে কারা এই পোস্টারগুলো লাগিয়েছে তা বলতে পারছি না।”

সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক বলেন, “পোস্টারে ধরিয়ে দিতে নাম থাকা ২৮ জনই চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।”

পোস্টারে যাদের নাম ও ছবি এসেছে তারা কি একই গোষ্ঠীর নাকি ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর- এমন প্রশ্নের জবাবে  এপিবিএন কর্মকর্তা বলেন, “পোস্টার সাঁটাই করার বিষয়টি পুলিশের কাছে মুখ্য নয়, পোস্টারে ছবিসহ নাম থাকা প্রত্যেকেই যেহেতু অপরাধী এবং মামলা রয়েছে; তাই তাদের সন্ধান পাওয়া মাত্রই গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পোস্টারে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- আরকান রোহিঙ্গা স্যালভ্যাশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনী, হেদায়েত উল্লাহ ওরফে খালেদ, মৌভলী মোস্তাক, মৌলভী লাল মোহাম্মদ ওরফে বোরহান, নুর কামাল ওরফে সমি উদ্দিন, ইব্রাহীম, মৌলভী জাকারিয়া, কাউসার ওরফে সাবের, খায়রুল আমিন ওরফে ইব্রাহীম, আলী জোহর, হাফেজ ইউনূছ, সানাউল্লাহ, জুলাইয়ার, শফিক, নুর মাহমুদ, হাফেজ নুর মোহাম্মদ, আব্দুর রহমান, হাসান, জাহিদ হোসেন ওরফে লালু, মাস্টার আব্দুর রহিম, জান্নাত উল্লাহ, মোহাম্মদ সলিম, মাহামুদুর রহমান, মোহাম্মদ জুবাইয়ের, মোহাম্মদ আলম ওরফে মুসা।

বালুখালী ক্যাম্প-৮ এর ব্লক মাঝি মোহাম্মদ খলিল জানিয়েছেন, পোস্টারে বার্মিজ ভাষায় লেখা হয়েছে, “তারা সন্ত্রাসী। এ মানুষগুলোকে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান। যদি কোনো ক্যাম্পে কেউ তাদের দেখতে পায় তাহলে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করার জন্য বলা হলো।” পোস্টারে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সঙ্গে অনেকের ফ্যামিলি কাউন্টিন নম্বরও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “তাদের গ্রেপ্তার করতে পারলে ক্যাম্পে শান্তি ফিরবে। আমরাও চেষ্টা করছি তাদের ধরিয়ে দিতে। ক্যাম্পের অর্ধেক অপরাধ এদের নিয়ন্ত্রণে চলে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক