Published : 23 Mar 2026, 04:37 PM
ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের জোয়ারে ভাসছে সিলেট। বিশেষ করে জাফলং ও সাদাপাথরের স্বচ্ছ জল আর পাহাড়ের মিতালি উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু।
রোববার থেকে স্বচ্ছ জলের সাদাপাথর, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, জাফলং, মায়াবী ঝরনা, পান্তুমাই ও লালাখালসহ বিভিন্ন চা-বাগানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
নগর জীবনের ক্লান্তি ভুলে স্বস্তির খোঁজে আগত পর্যটকরা স্বচ্ছ জলের স্নিগ্ধতা আর মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ের পাদদেশে বসে উপভোগ করছেন নির্মল প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্য।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মৌসুমে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে প্রায় দশ লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে। এতে পর্যটন খাতে অন্তত ১০০ কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরীর ধোপাদিঘীরপাড় ওয়াকওয়ে দেখতে আসা কবির উদ্দিন বলেন, “সকালে সিলেট এসেই সাদাপাথর ঘুরে এসেছি, খুব ভালো লেগেছে পরিবারের সদস্যদের। সারাদিন মাজার, চা বাগান ও শহরের ঘুরব।

“মঙ্গলবারও ঘুরে দেখবো, তারপর রাতে ঢাকায় ফিরব। পরিবারের সবাই উপভোগ করতেছে।”
সিলেট নগরীর শাহজালাল (রহ.) মাজার ও শাহপরাণ (রহ.) মাজার-এ সারা বছরই দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে। তবে ঈদ কিংবা যেকোনো দীর্ঘ ছুটিতে এসব স্থানে ভিড় আরও বেড়ে যায়।
গোয়াইনঘাটের রাতারগুল জলাবন-সংলগ্ন রাতারগুল গ্রামের বাসিন্দা সোনা মিয়া বলেন, “এবারের বারের ঈদের বন্ধে পর্যটকদের উপস্থিতি ভালো। ঈদের দিন থেকেই পর্যটকরা আসা শুরু করছেন। রাতারগুলের তিনটি নৌকাঘাট মিলে ২০০ থেকে ২৫০টি নৌকা রয়েছে পর্যটকদের জন্য।
“আর গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বনের সৌন্দর্য আরও বেড়েছে। বনের পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে।”
নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে সাদাপাথর এলাকায় ভ্রমণকারীদের আগমন অনেকটা কমে গিয়েছিল; ঈদকে কেন্দ্র করে তা আবারও বেড়েছে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবসায়ী হাসান মিয়া জানান।
তিনি বলেন, “সাদাপাথরে ঈদের দিন থেকেই বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। রমজানের পুরো মাস তেমন পর্যটকেরা আসে না। এখন ঈদে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে।”
কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফি সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনোয়ার হোসেন সুমন বলেন, “সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের নৌকাঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে সাজ-সজ্জা করা হয়েছে। রোববার পর্যটকদের চাপে নৌকা সংকট হয়েছিল, সোমবারও পর্যটকদের ভিড় লেগে আছে।”

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ সিলেটের সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, “এবার পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়বে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রে প্রাণ-প্রকৃতিও স্বরূপে এসেছে।
“গড় দেড় বছর ধরে দেশের নানা কারণে সিলেটের পর্যটন খাত জমে উঠেনি। তবে এবার জমে উঠবে।”
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে সিলেটের পর্যটনখাতে। ঈদ মৌসুমে সিলেটে প্রায় ১০ লাখ পর্যটকের উপস্থিতি ঘটবে বলে আশা করছি।”
এদিকে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন।
রোববার সিলেটে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর কথা বলেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, “সিলেট পর্যটকদের কাছে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
“পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে টয়লেট, বিশ্রামাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হবে।”