১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে সিইসি

জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে এর আগে আশা প্রকাশ করেছিলেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

বিশেষ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 12:17 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। তিন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম, তাহমিদা আহমদ এবং ইসি সচিব ও সংসদ সচিবালয় সচিবও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।”

গুরুতর অসুস্থততার কথা জানিয়ে গত ২৪ জুলাই বিকালে পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর সে পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২২ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এর আগে বলেছিলেন, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে তিনি আশা করচেন।

সংসদের বাজেট অধিবেশন ১৫ জুলাই শেষ হয়। সাংবিধানিকভাবে ১৫ জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসার কথা। সে হিসেবে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসবে।  

ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সময় বিবেচনা করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা নেবে ইসি।

সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। সেজন্য সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা বা সংসদ সদস্যদের নাম ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন সভায় সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। সিইসি থাকেন এ নির্বাচনের ‘নির্বাচনি কর্তা’। সাধারণত স্পিকার ও সিইসির বৈঠকের পর তফসিল ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা সারে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ ইতোমধ্যে বলেছেন, “স্বাভাবিকভাবে আমরা কমিশন সভা করব। তাতে বিস্তারিত আলোচনা হবে, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।”

কোথায়, কীভাবে নির্বাচন

নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে তাতে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ থাকবে। ভোট হবে সংসদ কক্ষ।

একটি আসনের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় ত্রয়োদশ সংসদে এবার সদস্য রয়েছেন ৩৪৯ জন; তারাই এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।

সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই সংসদের কক্ষে ভোট করতে হয়েছিল। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

সংসদের অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন হলে স্পিকার সাত দিন আগে বৈঠক আহ্বান করতে পারেন।

একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনি কর্তা ভোটের আয়োজন করবেন। নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে নিজের সই দিয়ে তা জমা দেবেন সংসদ সদস্যরা।

ভোটের দিন গ্যালারিসহ সংসদ কক্ষে প্রার্থী, ভোটার, ভোট নেওয়ায় সহায়তাকারী কর্মকর্তা ছাড়া সবার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্তকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর সমান ভোট পেলে প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।

পুরনো খবর

এবার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পালা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক মঙ্গলবার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক শিগগির