Published : 28 Jul 2026, 12:09 PM
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ভালো আলোচনা’ হচ্ছে আর তাদের সংঘাত নিয়ে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি আলোচনা ফলপ্রসূ না হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করবে।
রয়টার্স লিখেছে, ট্রাম্পের আশাবাদ সত্ত্বেও মার্কিন সামরিক অভিযানে দেওয়া বিরতিকে তেহরান দ্রুত পরীক্ষা করে দেখছে বলে মনে হচ্ছে, কারণ সোমবার সৌদি আরব, জর্ডান ও ইরাক ড্রোন হামলা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে।
পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে ট্রাম্প তার সর্বশেষ কৌশলগত ইউ-টার্নের অংশ হিসেবে ইরানে দুই সপ্তাহ ধরে চলা আকাশ হামলা শনিবার হঠাৎ করে স্থগিত করেছেন।
সোমবার তিনি বলেছেন, “আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হচ্ছে। আমার মনে হয়, কিছু একটা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে। যদি তা হয় তো ভালো। আর যদি না হয়, আমরা আবার সেই কাজে ফিরে যাবো যা আমরা দুই দিন আগে করছিলাম।”
একইদিন পরে মিশিগানে এক প্রচারণা সমাবেশে ট্রাম্প ইরান বিষয়ে বলেন: “তাদেরকে ঘুষ দেওয়া যাবে না। তাদেরকে হারাতে হবে আর আমরা ওদের আচ্ছা করে পিটিয়ে দেবো। তবে দেখা যাক কী হয়। এই মুহূর্তে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাকায়ি সোমবার বলেছেন, এখনও দুপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান হচ্ছে। ইরান কূটনীতি ত্যাগ করেনি কিন্তু আলোচনার অনুরোধ করেছে বলে যে খবর হয়েছে তা ‘বানানো’ ছিল।
“এটি আমাদের ডিএনএতে নাই,” বলেছেন তিনি।
রোববার এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ট্রাম্পের স্বেচ্ছা যুদ্ধবিরতি যতদিন বজায় থাকবে ইরানও তার হামলা স্থগিত রাখবে।
সোমবার রাতে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড তাদের অঞ্চলিক জলসীমায় থাকা জাহাজ ও তেল ট্যাংকারগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে।
তারা বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ সামুদ্রিক অবরোধ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে যা এই অঞ্চলে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি করবে।”
সৌদি আরব জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদসহ তাদের পেট্রলিয়াম লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো তারা গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এসব ড্রোন ইরাক থেকে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ছুড়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। এসব হামলার জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের আছে বলে সতর্ক করেছে রিয়াদ।
ইয়েমেনের ইরানি মিত্র হুতিরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের ড্রোন অনুপ্রবেশের প্রতিশোধ হিসেবে তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের প্রধান বন্দর ইয়ানবুতে তেল নেওয়ার পূর্বপশ্চিম পাইপলাইনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
তেহরান জানিয়েছে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।
বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের এ জলপথ দিয়ে জাহাজগুলোকে অবাধে চলাচল করতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ট্রাম্প।