Published : 30 Oct 2025, 09:34 PM
নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালত চত্বরে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হামিক আব্দুল্লাহ আল মাসুম ১০০ টাকা বন্ডে সাখাওয়াতসহ ছয় আসামিকে জামিন দেন বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক কাইউম খান।
জামিন পাওয়া অপর আসামিরা হলেন- আইনজীবী খোরশেদ আলম, মো. আল আমিন ও বিল্লাল হোসেন, তার সহকারী (মুহুরি) হিরণ বাদশা এবং রাসেল বেপারী।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) সাবেক সভাপতি সাখাওয়াতের সঙ্গে এজলাসে শুনানিতে অংশ নেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আইনজীবী আবু আল ইউসুফ খান টিপু, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল বারী ভূঁইয়া, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান, রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি ওমর ফারুক নয়ন।
তবে শুনানির জন্য বাদীপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না বলে জানিয়েছেন বাদী রাজিয়া সুলতানা। তার অভিযোগ, আদালতপাড়ায় অন্তত চারজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে চাননি বলে দাবি তার।
তবে রাজিয়া সুলতানা আদালতের বারান্দায় উপস্থিত থাকলেও তাকে এজলাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠেছে।
রাষ্ট্রপক্ষে আদালত পুলিশ শুনানিতে অংশ নেয় এবং জামিনের বিরোধিতা করেছে বলে দাবি পুলিশ পরিদর্শক কাইউম খানের। তিনি বলেন, “আমি নিজে এজলাসে উপস্থিত ছিলাম। আমার নজরে কাউকে এজলাসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা আসেনি।”
জামিন পেয়ে বার ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, “সব সময় আদালত প্রাঙ্গণকে পবিত্র রাখার চেষ্টা করেছি এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে নিজেকে সোচ্চার রেখেছি। অথচ আজকে এই রকম একটা মিথ্যা ঘটনায় আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হল। এই দুঃখ আমি কাউকে বুঝাতে পারব না।”
এর আগে রোববার আদালত প্রাঙ্গণে শহরের কালিরবাজারের স্যানেটারি ব্যবসায়ী মো. ইরফান মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা হামলার শিকার হন। পরে ইরফানের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেন; যেখানে হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে সাখাওয়াত হোসেনকেও আসামি করা হয়। তিন দিন পর মঙ্গলবার রাতে মামলাটি নথিভুক্ত করে পুলিশ।