Published : 29 Oct 2025, 09:02 PM
নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালত চত্বরে মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ নয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার মামলা নিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় বলে জানান ওই থানার ওসি আনোয়ার হোসেন।
মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তার নির্দেশে অপর আসামিরা হামলা চালায় বলে মামলার এজাহারে বলেছেন বাদী রাজিয়া সুলতানা।
রাজিয়া শহরের কালিরাবাজারের স্যানেটারি ব্যবসায়ী ইরফান মিয়ার স্ত্রী।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একজন।
মামলায় সাখাওয়াতের ঘনিষ্ঠ আইনজীবী খোরশেদ আলম, মো. আল আমিন ও বিল্লাল হোসেন, সাখাওয়াতের সহকারী (মুহুরি) হিরণ বাদশা ছাড়াও ইসমাইল, শাহ আলম, টিটু এবং রাসেল বেপারীকে আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া হামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজন অংশ নিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন বাদী।
এর আগে রোববার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সামনে ব্যবসায়ী ইরফান মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা হামলার শিকার হন। এতে ইরফান ছাড়াও তার স্ত্রী ও দুই সন্তান আহত হন।
মারধরের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন বিকালে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন রাজিয়া। কিন্তু অভিযোগে সাখাওয়াতের নাম থাকায় সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করতে গড়িমসি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
সাখাওয়াতের পক্ষেও একাধিক ব্যক্তি মামলা না করতে চাপ এবং হুমকি দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন রাজিয়ার ছেলে বক্সিং খেলোয়াড় মোহাম্মদ জিদান।
সোমবার রাতেও মামলাটি রেকর্ড না হওয়ায় ক্ষুব্ধ রাজিয়া তার সন্তানদের নিয়ে থানায় অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেন। থানায় অবস্থানেরও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে সমালোচনা শুরু হয়। পরদিন রাতে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে।
মামলা রেকর্ডে দেরি হওয়ার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, “আদালত চত্বরে ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর, তাই বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত, ভিডিও যাচাই-বাছাইয়ের পর মামলা রেকর্ড করেছি।”
তবে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ মামলায় কেউ গ্রেপ্তার নেই বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
মামলায় বলা হয়েছে, রাজিয়ার স্বামী ইরফান মিয়া অপর এক ব্যবসায়ী ইসমাইলের কাছে স্যানেটারি পণ্য বিক্রির ২৫ লাখ টাকা পান। এক বছর ধরে তিনি বকেয়া পরিশোধ না করে, উল্টো হুমকি দিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় কয়েকমাস আগে নারায়ণগঞ্জ মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে একটি মামলাও করেন।
মামলাটি বিবাদী ইসমাইলের পক্ষে বিএনপি নেতা আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন লড়ছেন বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
রোববার ওই মামলায় হাজিরা থাকায় বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরাও আদালতে যান। এ সময় আদালত চত্বরে বাদীপক্ষের লোকজনকে দেখতে পেয়ে সাখাওয়াতের নির্দেশে তার অনুসারী আইনজীবী ও সহকারী মিলে তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে করেন রাজিয়া।
মারধরের ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ায়। ভিডিওতে ইরফান ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে সাখাওয়াতের ঘনিষ্ঠ খোরশেদ আলম, আল-আমিন এবং মুহুরি হিরণ বাদশাকে দেখা যায়।
তবে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি ঘটনার সময় কোর্টে ছিলাম। পরে গিয়ে এ ঘটনার কথা শুনেছি এবং ভিডিও দেখেছি। আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই, তার প্রমাণ, ভিডিওতেও আমাকে দেখা যায় না।”
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে বিতর্কিত করতে হামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখাতে চাচ্ছেন বলে দাবি সাখাওয়াতের।
পাল্টা অভিযোগ তুলে আইনজীবী মো. আল-আমিন বলেন, “কয়েকজন ব্যক্তি মুহুরি হিরণ ভাইকে মারধর করছিল। এইটা দেইখা আমি একবার তাদের থামাইছিও। পরে তারা আমার উপরও চড়াও হয়।”
এদিকে বুধবার দুপুরে সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত চত্বরে মানববন্ধন করেছেন তার পক্ষের আইনজীবীরা।
রোববারের ঘটনায় সোমবার ফতুল্লা মডেল থানায় আরেকটি লিখিত অভিযোগ দেন এসএম আশরাফুজ্জামান; যিনি বিবাদী ইসমাইলের ভাই। তার দাবি, ইরফান ও তার পরিবারের সদস্যরা আদালত চত্বরে তাদের ওপর হামলা চালান।
তবে অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান। তিনি বলেন, “অভিযোগটি যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”