খুলনা সিটি নির্বাচন: কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম
নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের আওতায় ২৮৯টি কেন্দ্রে এবার ভোটকক্ষ রয়েছে এক হাজার ৭৩২টি।
রাত পোহালেই খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট। সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এই ভোটগ্রহণের জন্য কেন্দ্রগুলোয় পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম।
রোববার দুপুর ১২টা থেকে খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে নির্বাচন কমিশন।
সেখান থেকে ইভিএমসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝে নিয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রওয়ানা হচ্ছেন নিজ নিজ কেন্দ্রে।
এর আগে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে সকাল ১০টায় নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ব্রিফ করেন পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঁইয়া।
পরে বেলা ১১টায় তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন । এ সময় তিনি বলেন,“ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
এছাড়া র্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে দুপুর ১২টায় খুলনা জিলা স্কুলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হয়।
জানান হয়, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র ও নগরের নিরাপত্তায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় আট হাজার ৩০০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন ।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক দুপুর ১২টায় দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় তিনি জানান, নির্বাচিত হতে পারলে নগরীর চলমান উন্নয়ন কাজের ধারা অব্যাহত রাখবেন।
এ দিকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের আওতায় ২৮৯টি কেন্দ্রে এবার ভোটকক্ষ রয়েছে এক হাজার ৭৩২টি। ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন ৫ হাজার ৭৬০ জন কর্মকর্তা। থাকবেন ৪৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
তিনি জানান, নির্বাচনে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পুলিশ-আনসারের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন র্যাব-বিজিবির সদস্যরা। এর মধ্যে শনিবার দুপুর থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে টহল শুরু করেছেন বিজিবি সদস্যরা।
ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি-না,তা ঢাকা থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যবেক্ষণ করবে জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ভোট কেন্দ্রগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে ২ হাজার ৩০০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। ইভিএম মেশিন প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার।
এ ছাড়া সিটি করপোশনের এই নির্বাচনে পর্যবেক্ষক থাকবেন বেসরকারি দুটি সংস্থার ২০ জন ও নির্বাচন কমিশনের ১০ জন।
নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৬ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোটগ্রহণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়াম থেকে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা আলাউদ্দিন।
