০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রংপুরে গণপতি পরিবার হত্যা: উদ্ধার আলামতে মিলেছে সিদ্ধার্থ-মুগ্ধর ডিএনএ

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 02:03 PM

Updated : 09 Oct 2026, 02:52 PM

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় উদ্ধার করা কয়েকটি আলামতে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডিএনএ মিলেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রংপুর গোয়েন্দা শাথার পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ খেজুর, শসা, সিগারেটে পাওয়া নমুনার সঙ্গে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।

ডিবি পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। এসব আলামতের মধ্যে সিগারেটের অংশ, খেজুর, শসা, ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও দাগসহ বেসিন রয়েছে। এসব আলামত কয়েক দফায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২২ অগাস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর নগরের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তাদের প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

তাদের জবানবন্দির তথ্যের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য মিলিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা।

তখন রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. জিন্নাত আলী জানিয়েছিলেন, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দুই আসামির সংশ্লিষ্টতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল।

রংপুর ডিবির কর্মকর্তা সুমিত চৌধুরী বলেন, “ডিএনএর এই মিল মামলার ফরেনসিক প্রমাণকে আরও জোরালো করতে পারে।

“বিশেষ করে ঘটনাস্থলে পাওয়া খাদ্যদ্রব্য ও ধূমপানের আলামতে দুই আসামির ডিএনএ পাওয়ার তথ্য, তাদের ঘটনার সঙ্গে সম্ভাব্য সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”