Published : 20 Nov 2025, 09:00 PM
মিথ্যা চুরির অভিযোগে এক রিকশাচালককে থানায় আটকে রেখে ‘নির্যাতন ও ঘুষ’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর মাইনুল হোসেন নামের ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করার তথ্য দিয়েছেন সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।
সলঙ্গা থানায় সেকেন্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত এসআই মাইনুল এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, “ধুবিল কাটারমহল গ্রামের একটি বাড়িতে চুরির ঘটনায় করা মামলায় ১০ জুলাই রাতে এসআই মাইনুল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আনোয়ারকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
“পরে তাকে রাতভর থানা হাজতে আটকে রাখা হয়। পরদিন সকালে তাকে থানার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করে চুরির ঘটনায় স্বীকারোক্তি নেওয়ার চেষ্টা করেন এসআই মাইনুল। স্বীকার না করায় তাকে জুলাই আন্দোলনে হামলা ও অস্ত্র লুটের মামলায় গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়।”
“এমন পরিস্থিতিতে কোনো তথ্য না পেয়ে আনোয়ারের কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এসআই মাইনুল। এরপর ১৬ হাজার টাকা ঘুষ ও মুসলেকা দিয়ে ছাড়া পান আনোয়ার। তবে ছাড়া পাওয়ার আগে পুলিশ তাকে কোনো নির্যাতন করেনি এবং ঘুষ নেয়নি বলে ভিডিও রেকর্ড করে রাখা হয়।”
অভিযোগকারী দেওভোগ গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার ভয়ে এতদিন বিষয়টি গোপন রাখলেও ১১ নভেম্বর সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।
পরে পুলিশ সুপার বিষয়টি সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।
আনোয়ারের অভিযোগ বলেন, “মিথ্যা অভিযোগে আমাকে থানায় ধরে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে ১৬ হাজার টাকা নিয়ে মুসলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। আমি গরীব মানুষ, ধারদেনা করে এসআইকে ঘুষ দিয়েছি।”
ন্যায় বিচারের আশায় পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই মাইনুল বলেন, “একটি চুরির মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আনোয়ারকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাকে কোনো নির্যাতন কিংবা ঘুষ গ্রহণ করা হয়নি।”