Published : 01 Mar 2026, 12:32 PM
শরীয়তপুরে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে, প্রতিদিন ৩০-৪০ জন রোগী সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। যাদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি।
তবে শয্যা সংকট বাধ্য হয়েই হাসপাতালের খোলা মেঝে, বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে নিচ্ছে রোগীদের। সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক নার্সরা।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিদিনই শিশুসহ সাধারণ ডায়রিয়ার রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। তাদের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
হাসপাতালের ভর্তি তথ্য থেকে জানা যায়, বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩১ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন শিশু; বৃহস্পতিবার ৩৫ জন ভর্তি হন, যার মধ্যে শিশু ১৫ জন। শুক্র-শনিবারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আর রোববার সকাল ১১টার মধ্যে ২৫ জন ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ১৬ জনই শিশু।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া ওর্য়াডে গিয়ে দেখা যায়, বেডের তুলনায় সাধারণ রোগী, শিশু-বয়স্কসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৫ গুণ বেশি রোগী র্ভতি রয়েছেন। ওয়ার্ডের সামনের বারান্দায়ও চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে।
র্ভতি হওয়া শিশু মিনহাজ এর মা পারুল বেগম বলেন, বাবুর পাতলা পায়খানা ভালো হয় না, বিধায় হাসপাতালে ডায়রিয়া ওর্য়াডে ভর্তি করেছি। বেড না পেয়ে কারণে বাধ্য হয়ে খোলা মেঝেতে বাবুর চিকিৎসা নিচ্ছি।
আগের দিন ভর্তি হওয়া শিশু আয়ানের বাবা বলেন, “সিট না পেয়ে হাসপাতালরে ফ্লোরে আমার বাবুর চিকিৎসা নিচ্ছি। তবে এখানকার পরবিশে অত্যন্ত নোংরা। ফ্লোর ও টয়লেটগুলো খুবই অপরিষ্কার ও স্যাতস্যাতে।
“এছাড়া ঠিকমতো ডাক্তার পাওয়া যায় না, সময়মতো র্নাসদের পাই না”, বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কর্তব্যরত র্নাস নুরজাহান বেগম বলেন, “আমাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট। কিন্তু এখানে রোগী আছে বর্তমানে ৫০ জন। আমাদের এখানে ডাক্তার তো কম। প্রতিদিন ১ জন ডাক্তার আসেন ডিউটিতে। ডাক্তার এবং নার্স আমরা প্রতিদিন হিমশিম খাচ্ছি।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হাবিবুর রহমান বলেন, “প্রকৃতি এখন ভারসাম্যহীনভাবে চলছে। দিনের বেলায় গ্রীষ্মের গরম, রাতে আবার শীত। এটা ভালো না। এ রকম আবহাওয়া পরর্বিতন জনিত কারণে বয়স্ক, বৃদ্ধ ও শিশুদের বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। তবে ঠান্ডা ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেশী।
তিনি আরও বলেন, “বেড না থাকায় এসব রোগীদের ফ্লোর ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হয়। আসলে এভাবে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া রোগীদের পাশপাশি আমাদের জন্যও খুবই কষ্টকর এবং এটা খুবই অমানবকি।”
তবে আমরা আমাদের সাধ্য মতো রোগীদের সর্ব্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি- বলেন এই চিকিৎসক।