Published : 03 Jul 2026, 07:56 PM
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ঘুমন্ত এক বৃদ্ধাকে শিল-পাটা দিয়ে আঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে উপজেলার পূর্ব সুবিদখালী গ্রাম থেকে ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয় বলে জানান মির্জাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খান মো. নুরুল ইসলাম।
নিহত উত্তম দেবনাথ (৬০) ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন। আটক ছেলের নাম তাপস দেবনাথ (৩৮)।
পুলিশ পরিদর্শক নুরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উত্তম দেবনাথের প্রথম ঘরের সন্তান তাপস দেবনাথ। তাপসকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তার কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হচ্ছে। তার এক বোন তাপসি দেবনাথ ঢাকা থাকেন। তিনি রওনা হয়েছেন। তিনি আসার পরেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।”
তবে উত্তম দেবনাথের দ্বিতীয় স্ত্রী কানন দেবনাথ মানসিকভাবে সুস্থ নন বলে জানান তিনি।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, রাতে প্রতিদিনের মতো খাবার শেষ করে উত্তম দেবনাথ ও তার ছেলে তাপস একই ঘরে ঘুমাতে যান। আর কানন দেবনাথ ঘরের পেছনের বারান্দায় ঘুমাচ্ছিলেন। ভোর ৪টার দিকে তাপস ঘরে থাকা শিল-পাটা নিয়ে তার ঘুমন্ত বাবার কপালে আঘাত করেন।
এ সময় তার ডাক-চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে স্ত্রী কানন ছুটে গিয়ে উত্তমকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে তিনিও চিৎকার শুরু করেন। পরে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানান। তবে এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই উত্তম মারা যান।
খবর পেয়ে পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ পরিদর্শক নুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাপসকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।