Published : 28 Jul 2025, 02:40 PM
গাজীপুরের টঙ্গীতে খোলা ম্যানহোলে পড়ে এক তরুণী নিখোঁজ হয়েছেন। ঘটনার ১৭ ঘণ্টা পার হলেও নিখোঁজের সন্ধান পায়নি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
রোববার রাত ৮টার দিকে টঙ্গী হোসেন মার্কেটের ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনের ড্রেনে পড়ে ওই নারী নিখোঁজ হন বলে জানান টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শাহিন আলম।
প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে নিখোঁজ হলেও সোমবার তার পরিচয় শনাক্ত হয়। তার নাম ফারিয়া তাসনিম জ্যোতি (২৪)। তিনি ঢাকা মিরপুরের মনি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ওষুধের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।জ্যোতি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মসজিদ পাড়ার ওলিউল্লাহ আহাম্মদ বাবলুর মেয়ে। দুই ভাইকে নিয়ে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে হোসেন মার্কেট এলাকায় বসবাস করেন তারা।
জ্যোতির চাচাতো বোন ঐশী বলেন, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে টঙ্গী হোসেন মার্কেটের ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ডাক্তার ভিজিট করে বাসায় ফেরার পথে হাসপাতালের সামনের ড্রেনে পড়ে নিখোঁজ হন জ্যোতি।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে একটি বড় পানি নিষ্কাশনের ড্রেন পার হওয়ার সময় এক নারী ড্রেনে পড়ে স্রোতে মুহূর্তেই হারিয়ে যান। প্রথমে স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ তিনটি ইউনিটের সদস্যরা অভিযান চালায়। সোমবার বেলা আড়াইটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসী বলছেন, ড্রেনটি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী অঞ্চল কর্তৃপক্ষের। দীর্ঘ দিন ধরে ড্রেনটির নানা স্থান খোলা অবস্থায় থাকায় ফুটপাত দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পথচারীদের চলাচল করতে হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, টঙ্গী কলেজ গেইট থেকে গাজীপুরা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারের পথে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনটির একাধিক স্থান উন্মুক্ত। ঝুঁকি নিয়ে পথচারীদের পথ চলতে হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনের বিআরটি রাস্তার পাশে থাকা ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত। সেখানে কোনো স্লাব বসানো হয়নি। এমনকি সতর্কতামূলক কোনো সাইনবোর্ডও ছিল না। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে অনেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝেড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা শাহিন আলম বলেন, “আমাদের তিনটি ইউনিট উদ্ধার অভিযানে ঘটনাস্থলে কাজ করছে। পাশাপাশি দেশের সেরা পাঁচজন ডুবুরিসহ ফায়ার সার্ভিসের ২০ কর্মী উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। জ্যোতির লাশ উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে পানির স্রোত এবং ড্রেনের গভীরতা উদ্ধার কাজকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ”