Published : 30 Jan 2026, 04:00 PM
এগারো দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে ফেনীর বন্যা সমস্যা সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
ফেনীতে নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেছেন, “এখানে যে বাঁধটির কারণে আপনাদের দুঃখ, সেই বাঁধ এখনো নির্মাণ হয়নি। আল্লাহ যদি আমাদেরকে সেই সুযোগ দেন, আমরা জানি পার্শ্ববর্তী আমাদের প্রতিবেশী দেশের সাথে একটু এ ব্যাপারে ব্যাপার-স্যাপার আছে।
“আমরা তাদেরকে শ্রদ্ধা করি। আশা করি, তারাও আমাদেরকে শ্রদ্ধা করবে। এবং তাদের সাথে আমরা ফ্রুটফুল ডায়ালগের মাধ্যমে আমরা এর শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করব ইনশাআল্লাহ।
“কারণ আমার দেশ রক্ষার অধিকার আমার। এই দায়িত্ব আমাকে নিতেই হবে। এই দায়িত্ব অগ্রাহ্য করে আমরা চলতে পারব না।”
শুক্রবার ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন শফিকুর রহমান।
উজানে পাহাড়ি ঢল আর অতি ভারি বৃষ্টির মধ্যে ২০২৪ সালের অগাস্টে ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।
অল্প সময়ের মধ্যে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার পর উপদ্রুতদের কেউ কেউ বলেছিলেন, জীবদ্দশায় বন্যার এমন ভয়াল রূপ দেখেননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্যার সময় প্রায় প্রতি বছরই উজানের পানির ঢলে ফেনীর মুহুরী-কহুয়া-সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়।

শফিকুর রহমান বলেন, “৩৬ জুলাইর বিপ্লবের পরপরই সম্ভবত ১২ অগাস্ট, সীমান্তের ওপার থেকে ধেয়ে আসা পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে গোটা ফেনী জেলা সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং কুমিল্লার একটা অংশ এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই সময়টা প্রথম দিনেই ঝুঁকি নিয়ে আমরা এসেছিলাম।
“…ওই সময়টা ভাঙ্গা বাঁধের জায়গায় যেতে পারিনি। এর পরেই আবার যখন অনুকূল সামান্য পরিবেশ এসেছে, এসেছিলাম সেই জায়গাটা দেখার জন্য। ছোট্ট একটি জায়গা। এটি মর্যাদার প্রশ্ন, এটি আমাদের নিরাপত্তার প্রশ্ন।”
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুম অঞ্চলে খাবার পানি সংকট দূর করতে ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি উত্তোলনের বিষয়ে ২০১৯ সালের বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল।
ওই সমঝোতাসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার জেরে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে নির্মমভাবে মেরে ফেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
জামায়াত আমির শফিকুর বলেন, “আজকে আমার বড়ই মনে পড়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র আবরার ফাহাদকে। এই ফেনী নদী নিয়ে দুটি কথা বলেছিল; এজন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে।

“ফেনীবাসী আবরার ফাহাদের রুহকে আপনাদের কাছে রেখে গেলাম। যতদিন ফেনী দুনিয়ায় বেঁচে থাকবে, আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা আবরার ফাহাদকে আপনাদের কলিজায়, আপনাদের হৃদয়ে একটু জায়গা দিয়ে রাখবেন।
“সে আপনাদের কথা বলেছিল। সে দেশের ন্যায্য প্রাপ্যতার কথা বলেছিল। এজন্য যারা আধিপত্যবাদের দোসর এবং যারা আধিপত্যবাদের দালাল তারা তাকে সহ্য করতে পারেনি।”
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, “এই বাংলাদেশে রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে—সেই সংস্কৃতির ধারা আমরা পাল্টে দিতে চাই। রাজার ঘরে জন্ম নিলেই রাজা হওয়া যাবে না, মন্ত্রীর ঘরে জন্ম নিলেও মন্ত্রী হওয়া যাবে না; তার আপন যোগ্যতা যদি থাকে, সে কেবল এই কাজের জন্য নির্বাচিত হবে।
“আমরা এমন বাংলাদেশ চাই—একজন সাধারণ রিকশাচালক ভাই, তার সন্তানের মেধা বিকাশের মাধ্যমে একদিন যেন সেও এদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে; ওই বাংলাদেশটা আমরা গড়তে চাই। অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি যেটা ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে, একনায়কতন্ত্র উপহার দিয়েছে, দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে, ডুবিয়ে দিয়েছে; ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই।”