Published : 30 Jun 2026, 11:17 PM
‘সাঁওতাল বিদ্রোহ’ ভারতবর্ষের আদিবাসী মানুষের আত্মমর্যাদা ও অধিকার রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
ঐতিহাসিক ‘সাঁওতাল বিদ্রোহ’ দিবসের ১৭১তম বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের খরপা মাঠে আয়োজিত সভায় তারা এই মন্তব্য করেন।
শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, তীর ছোড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এতে উপজেলার ২৫টি গ্রামের সাঁওতাল, ওঁরাও, মালপাহাড়িয়া, মুণ্ডাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অংশ নেন।
সামাজিক সংগঠন পারগানা, বাইসি ও দিঘরী পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে বেসরকারি সংস্থা ডাসকো।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তীব্র রোদ উপেক্ষা করে ঢোল-মাদল ও তীর-ধনুক নিয়ে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শোভাযাত্রা করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই ছিল বেশি। এদের অনেকেই শিশুকে কোলে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি বিচিত্রা তির্কির সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার গৌতম বিশ্বাস, বঙ্গপাল সরদার ও পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।
সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিহাসের উপর আলোকপাত করে বঙ্গপাল সরদার বলেন, “সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রথম সশস্ত্র গণসংগ্রাম এবং ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এই বিদ্রোহ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের আত্মমর্যাদা ও অধিকার রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক।”

তিনি বলেন, “যে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আদিবাসীরা জীবন উৎসর্গ করে আন্দোলন করেছিলেন, সময়ের সঙ্গে তার ধরন পরিবর্তিত হয়েছে এটা সত্য। কিন্তু সেই বৈষম্য ও বঞ্চনা এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি।”
পরে আদিবাসী শিল্পীরা তাদের নিজ নিজ সংস্কৃতির পরিবেশনা তুলে ধরেন।
গোমস্তাপুর ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুগিডাইং, নওগাঁর নিয়ামতপুর, ধামইরহাট, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।