২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

চার বছর হাসপাতালে পড়ে আছে ১৯ কোটি টাকার ক্যাথল্যাব

মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেই এমআরআইয়ের ব্যবস্থাও।

চার বছর হাসপাতালে পড়ে আছে ১৯ কোটি টাকার ক্যাথল্যাব
মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 May 2024, 02:08 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:36 AM

মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যাথল্যাব মেশিন থাকলেও তা চালু হয়নি অজানা কারণে। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় চার বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে ১৯ কোটি টাকার দুটি ক্যাথল্যাব। 

তবে সম্প্রতি কয়েকজনকে ঢাকায় প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে; তারা ফিরলে ক্যাথল্যাব দুটি চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচটিএমএস এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ট্রেড হাউস হাসপাতালে দুটি ক্যাথল্যাব সরবরাহ করে। তবে দক্ষ জনবল সংকট ও ল্যাবের ওয়াশরুম তৈরি না হওয়ায় এনজিওগ্রাম ও হার্টের রিং বসানোর এসব মেশিন চালু করা সম্ভব হয়নি।

এছাড়া ১৮ কোটি টাকায় কেনা এমআরআই মেশিনটি স্থাপন করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এইচটিএমএস। কারিগরি ত্রুটির কারণে তিন বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি এই যন্ত্রটি।

অপরদিকে হাসপাতালের তিনটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের মধ্যে দুটি চালু থাকলেও একটি বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের নিচ তলায় রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে রয়েছে এমআরআই মেশিন। ভবনের দ্বিতীয় তলায় কার্ডিওলজি বিভাগে ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। অলস পড়ে আছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের এসব যন্ত্রপাতি। সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে অন্যত্র এসব সেবা নিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের উজ্জ্বল হোসেন বুকে ব্যথা নিয়ে কয়েকদিন আগে কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে সুস্থ হয়ে পাঁচদিন পর ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি। 

তিনি বলেন, “হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর জানতে পারলাম এখানে এনজিওগ্রাম মেশিন আছে কিন্তু সেটির কার্যক্রম বন্ধ। যদি আমার এই পরীক্ষাটি করতে হত তাহলে অসুস্থ শরীর নিয়ে ঢাকায় ছুটতে হত। তাই দ্রুত এই সেবাটি চালু করা হোক।”

সদর উপজেলার বারইল এলাকার হাবিব জানান, গরীব মানুষ অসুস্থ হলে তাদের একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল। সেখানে অনেক উন্নতমানের যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। অনেক কম মূল্যে এই সেবাগুলো এখানে পাওয়া যায়। 

যদি সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে বড় রোগের জন্য ঢাকায় ছোটাছুটি করতে হবে না বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের ক্যাবল্যাবে পড়ে আছে এনজিওগ্রাম ও হার্টের রিং বসানোর মেশিন।

হাসপাতালের ক্যাবল্যাবে পড়ে আছে এনজিওগ্রাম ও হার্টের রিং বসানোর মেশিন।

হরিরামপুর উপজেলার বয়ড় ইউনিয়নের সুমন মিয়া বলেন, “কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী বেড়েছে। এমআরআই পরীক্ষা চালু হলে কাউকে আর অন্য কোথাও যাওয়া লাগত না।”

হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, এই হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৮০টি শয্যা আছে। তবে ৪০ শয্যার সাধারণ ওয়ার্ড চালু না থাকায় ৪০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে পারেন না।

এ ছাড়া হাসপাতালে ক্যাথল্যাব দুটি চালু হলে এনজিওগ্রাম ও হার্টে রিং বসানোর চিকিৎসা শুরু করা যাবে বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, হাসপাতাল চালুর শুরুর দিকে এমআরআই মেশিনটি চালু করা হয়েছিল। মেশিনটি গরম হয়ে যাওয়ায় পরামর্শক টিমের সুপারিশে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এ মেশিন দিয়ে একজন রোগীকেও সেবা দেওয়া যায়নি।

এছাড়া হাসপাতালে তিনটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের মধ্যে একটি বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি। 

হাসপাতালের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি পরিচালক পদে এই হাসপাতালে যোগদানের পর থেকে ক্যাথল্যাব, এমআরআই, আইসিইউ ও এক্স-রে মেশিন চালু করার জন্য কাজ করছি। হাসপাতালের দুটি ক্যাথল্যাবের একটির ওয়াশরুম তৈরি বাকি রয়েছে। 

“তিনজন নার্স ও দুজন টেকনিশিয়ানকে ঢাকায় প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। তারা আসার পরই ক্যাথল্যাব দুটি চালু করা সম্ভব হবে।”

এমআরআই মেশিনটি চালুর বিষয়ে পরিচালক বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছে। তাদের টেকনিশিয়ান দেখে গেছেন। দ্রুত মেশিনটি চালুর আশা করা হচ্ছে।