Published : 05 Oct 2025, 03:46 PM
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-বাকৃবির একাডেমিক কার্যক্রম সচল হয়েছ।
রোববার থেকে ক্যাম্পাসে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সোনিয়া সোহেলী জানান।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ আবাসিক হলগুলোতে উঠতে শুরু করেন।
এর আগে শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ৩১ অগাস্ট রাতে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তখন শিক্ষার্থীদের ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার মধ্যে আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এক মাস ছয় দিন পর রোববার সকালে বিভিন্ন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের আসতে দেখা যায়। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘ বন্ধের কারণে সেশনজটের শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
আর শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় হলে দ্রুত ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব।
ভেটেরিনারী অনুষদের শিক্ষার্থী ফারিসা হক নিঝুম বলেন, “দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার খুলেছে। শিক্ষার পরিবেশ আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হবে সেটাই প্রত্যাশা করছি।

“তবে সেশনজটের কিছুটা আশঙ্কা রয়েছে। আমরা স্যারদের সঙ্গে আলোচনা করে কিভাবে পড়াশোনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায় সেই চেষ্টা করবো।”
মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী তাহিবা তানজিম বলেন, “আমাদের সেমিস্টার পরীক্ষা হয়। সেশনজট হবে সেটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে আগের তুলনায় পরিশ্রম একটু বাড়িয়ে দিলে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো।”
ভেটেরিনারি অনুষদ এবং পশু পালন অনুষদের ডিগ্রিকে একীভূত করে ‘কম্বাইন্ড ডিগ্রি’র দাবিতে ৩১ অগাস্ট দিনভর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে উপাচার্যসহ ২৫১ শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের পাশ থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ বহিরাগত দেশি অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয়। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে বহিরাগতরা তালা ভেঙে দিলে অবরুদ্ধ শিক্ষকরা বেরিয়ে যান। এতে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা আসে।
সংকট নিরসনে বেশ কয়েক দফা আলোচনা করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। সবশেষ প্রক্টর এবং শিক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ায় আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান শিক্ষার্থীরা। যেখানে ৩ ডিগ্রি চালু করাসহ বাকৃবির তদন্ত কমিটিতে কোনো শিক্ষার্থী যাতে হয়রানির শিকার না হয়, দুপক্ষের এমন সম্মতিতে বাকৃবি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
সহকারী প্রক্টর সোনিয়া সোহেলী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। সেশনজটের কিছুটা আশঙ্কা কলেও ছাত্র-শিক্ষক বসে সমন্বয় করে নিলে বেশি প্রভাব পড়বে না।”