Published : 20 Jul 2026, 11:05 AM
শেরপুর শহরের বিসিক শিল্পনগরীতে জেলার একমাত্র বেসরকারি হিমাগার ‘তাজ কোল্ড স্টোরেজ’-এ অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে প্রায় ৫৭ হাজার বস্তা আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নষ্ট হওয়া আলুর মধ্যে বীজ আলুও থাকায় আসন্ন মৌসুমে বীজের সংকট দেখা দিতে পারে।
তাজ কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলছেন, “দুর্ঘটনাবশত পাইপ ফেটে গিয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে ৫৭ হাজার বস্তা আলু নষ্ট হয়েছে।”
“বিষয়টি নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে পরবরর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”
শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, জেলায় গত মৌসুমে ৫ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯০০ মেট্রিক টন। মৌসুমের শুরুতে আলুর দাম কম থাকায় বেশি লাভের আশায় এবং পরবর্তী মৌসুমের চাষাবাদের জন্য কৃষকরা প্রতি বছরের মত এবারও কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন।
জেলায় সরকারি দুটি বীজ আলু হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা মাত্র ৩ হাজার মেট্রিক টন। ফলে কৃষকদের বীজ আলু সংরক্ষণের প্রধান ভরসা ছিল জেলা শহরের বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত জেলার একমাত্র বেসরকারি হিমাগার ‘তাজ কোল্ড স্টোরেজ’।
এই হিমাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন বা ১ লাখ ৭৩ হাজার বস্তা। এখানে বস্তাপ্রতি ৩৬০ টাকায় নভেম্বর মাস পর্যন্ত বীজ ও খাবারের আলু রাখা যায়। শেরপুর এবং বাইরের আশেপাশের এলাকা থেকেও এখানে আলু রাখা হয় ।
গত ১৪ জুলাই কোল্ড স্টোরেজটির রেফ্রিজারেশন ইউনিটের একটি পাইপ ফেটে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হওয়া শুরু করে। প্রথমে কোল্ড স্টোরেজের ফোরম্যান আব্দুল মান্নান ও তার সহকারীরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে।

তাজ কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক রফিকুল বলেন, “এ ঘটনায় কোল্ড স্টোরেজটির তিনটি চেম্বারের মধ্যে দুই নম্বর চেম্বারে সংরক্ষিত প্রায় ৫৭ হাজার বস্তা অর্থাৎ ৩ হাজার ১০০ টনের বেশি আলু পচে নষ্ট হয়।”
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে রোববার দুপুরে কৃষকেরা কোল্ড স্টোরেজের সমনে বিক্ষোভ করেন। বীজ আলু নষ্ট হওয়ায় আগামী মৌসুমে কীভাবে আবাদ করবেন, তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
শেরপুর সদর উপজেলার হেরুয়া গ্রামের কৃষক সুলতান বলছিলেন, আগামী মৌসুমে চাষাবাদের জন্য তিনি ৫১ বস্তা বীজ আলু রেখেছিলেন। কিন্তু অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের কারণে সব আলু পচে গেছে। টাকা দিয়ে কোল্ড স্টোরেজে আলু রেখেও তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন দুচোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি।
একই উপজেলার লতারিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম, আনোয়ার ও দেলোয়ারসহ আরও বহু কৃষকের অবস্থা সুলতানের মতোই শোচনীয়। অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে আলু পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কৃষকদের পাশপাশি লোকসানের মুখে পড়েছেন আলু ব্যবসায়ীরাও। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল গণি বলছিলেন, “আমার ১ হাজার ৬৪০ বস্তা দেশি আলু একেবারে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
এদিকে নষ্ট আলু বাজারে বিক্রি হয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’ আলুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ই্ইএনও) আসমা বিনতে রফিক কোল্ড স্টোরেজের ক্ষতিগ্রস্ত চেম্বার পরিদর্শন করেছেন।
ইউএনও বলেন, “নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আলুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করবে। ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”