Published : 02 Jan 2025, 06:58 PM
উত্তর জনপদে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ঘন কুয়াশা আর হিম বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। রংপুর জেলার প্রকৃতিও মুড়ে আছে কুয়াশার চাদরে।
এ জেলায় শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে গত মঙ্গলবার থেকে। এরপর দুদিনে তা আরও বেশি জেঁকে বসেছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ পরিস্থিতিতে খেটে-খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীদের ভিড়। শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে পড়েছে হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বাইরে বের হচ্ছেন না। শীতের দাপটে গ্রামাঞ্চলের অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
তিন দিন ধরে কনকনে হিমেল হাওয়া বাড়ার সঙ্গে কমেছে তাপমাত্রা। বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় শীত আর ঠান্ডার প্রকোপ বেশি অনুভূত হচ্ছে। এ রকম মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ আরও দুই-তিনদিন স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বুধবারও জেলায় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আর মঙ্গলবার রেকর্ড করা হয় ১৩ ডিগ্রি এবং সোমবার ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
“মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আর বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীত আর ঠান্ডার প্রকোপ বেড়ে গেছে।”
জানুয়ারির শেষ দিকে আরও দুটি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শীতের দাপটে গ্রামাঞ্চলের অনেকেই আগুনের কুণ্ডলি জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। দিনের বেলা সূর্যের উত্তাপ না থাকায় হিমেল বাতাসে কমতে থাকে তাপমাত্রার পারদ। এ অবস্থায় সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত শীত অনুভূত হতে থাকে।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশার দাপটে সড়কে মানুষের উপস্থিতি কম। সড়কে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহন কম চলাচল করতে দেখা গেছে। সড়কে দূরপাল্লার গাড়িগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করেছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মস্থলে যেতে বের হওয়া মানুষদের উপস্থিতি বেড়েছে।
সকালেও নগরের পায়রা চত্বর, বেতপট্টি মোড়, শাপলা চত্বর, পার্কের মোড় ও টার্মিনাল এলাকায় শ্রমিকদের জটলা দেখা গেছে। খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছিল হতদরিদ্র এসব মানুষ।
এদিকে শীতজনিত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, পেট ব্যথা, জন্ডিস, সর্দি-জ্বরে ভুগছে শিশু ও বৃদ্ধরা। এ কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তরাঞ্চলের বহু মানুষ প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, “আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণে চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া শীতের সময়টাতে এমন রোগব্যাধী বাড়ে।”
আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।