Published : 11 May 2026, 08:37 PM
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত এক নেতার নেতৃত্বে বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা।
বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ কনফারেন্স রুমে ডিন কাউন্সিলের আয়োজনে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল ইসলাম, হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক আবদুল মালেক, ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. আতিকুর রহমান, কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক নিজাম উদ্দীন, মো. শহিদুল ইসলাম, ননী গোপাল, রিপন চন্দ্র পাল, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. জসিম উদ্দিন, কর্মকর্তা হাসিব মোহাম্মদ তুষার, আরিফুর রহমান নোমান এবং নাসরিন আক্তারসহ অনেকে। তাদের মধ্যে আটজন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি আছেন।
উপাচার্যের নির্দেশে এ হামলা হয়েছে দাবি করে অধ্যাপক আতিকুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর নজিরবিহীন হামলা।”
হামলার বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের বৈঠক আছে। সেই বৈঠকে যোগ দিতে সকাল ৮টায় ক্যাম্পাস থেকে আমি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছি।”
তবে আন্দোলনে বহিরাগতদের হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন উপাচার্য।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষক ও কর্মকর্তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের অপসারণ দাবি জানান।
এ সময় দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব সালাউদ্দিন রিপন শরিফের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কর্মসূচিতে বাধা দেন। এক পর্যায়ে বহিরাগতরা আন্দোলনকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আট শিক্ষকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা রিপন শরীফের নেতৃত্বে আসা বহিরাগতরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় শিক্ষকদের চেয়ার দিয়ে পেটানো হয়।
এ ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল হয়।
পরে বিকাল ৪টায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনায় বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা।
ঘটনার সময় ক্যাম্পাসে অবস্থানরত বহিষ্কৃত যুবদল নেতা রিপন শরীফ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা শুনেছি, কিছু আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ ভিসি সাহেবকে এখানে আসতে দিচ্ছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এখানে এসেছি, কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। তারা মব সৃষ্টিকারী।”
এ বিষয়ে দুমকি থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, “আমরা খবর পেয়েছি। শুনেছি এ বিষয়ে তাদের একটি সভা হবে। এরপরও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”