Published : 21 May 2026, 11:16 PM
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সি শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এ সময় দেশব্যাপী নারী-শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের বিচার দাবি করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান বাম সংগঠনগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট’। একই দিন দুপুরে একই স্থানে আলাদা আরেকটি মানববন্ধন থেকে একই দাবি জানায় ছাত্রীসংস্থা।
মানববন্ধনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “এদেশে যখনই কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, তখনই ধর্ষিতার পোশাক নিয়ে কথা বলা হয়। কোনো সভ্য দেশে এমন করার কোনো সুযোগ নেই।
“অথচ এদেশের মানুষরূপী কিছু অমানুষ সোশ্যাল মিডিয়ার মতো পাবলিক স্পেসে সেই কাজটিই করে যাচ্ছে। রামিসার বাবা আজ বিচারের দাবিই জানাতে পারছেন না। এদেশে ধর্ষণের পরও বসুন্ধরার আনভীরের মতো লোক আজও প্রভাব খাটিয়ে চলতে পারছে। আর রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের তোষামোদ করে যাচ্ছে।”
এ কর্মসূচি থেকে রামিসাসহ সব ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের এ নেতা।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী প্রসেনজিৎ দ্বীপ বলেন, “রামিসার বাবা বিচার চাই না বলে মূলত দেশের বিচার বিভাগের উপর থুথু মেরে দিয়েছেন। সরকার বিচার বিভাগ নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখালেও বিচার বিভাগ সবসময়ই অথর্ব হয়েই থেকেছে।

“বিচার বিভাগ একটা ধর্ষণেরও ন্যায় বিচার করতে পারেনি। বিচার বিভাগকে যদি স্বাধীন না করা যায় তাহলে রামিসার বাবার মতো সবাই বলবে, ‘আমি বিচার চাই না, আপনারা বিচার করতে পারবেন না’।”
দুপুরে ছাত্রীসংস্থা আয়োজিত মানববন্ধনে মন্নুজান হল সংসদের ভিপি সুমাইয়া জাহান বলেন, “রামিসা হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; অতীতেও নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার বহু ঘটনা ঘটেছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
“সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে অনেক নারী ও শিশু নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। আমি চাই, রামিসাসহ নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সব সহিংস ঘটনার বিচার নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়।”
শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাকসুর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা হাফসা বলেন, “বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে। আমরা দ্রুত বিচার এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ চাই।”