Published : 20 Sep 2026, 04:16 PM
কুমিল্লার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতে হত্যার উদ্দেশ্যে তুহিনই প্রথমে তার মাথায় আঘাত করেন, পরে আরও দুই কিশোর তাকে অনুসরণ করে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
রোববার বেলা সোয়া ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে এর আগেই চারজনকে আটকের কথা জানিয়েছিল পুলিশ।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটিও।
শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। রাত পর্যন্ত অপ্রতিম বাসায় না ফেরায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতিম কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় সিসিটিভি ভিডিও দেখে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) নামে একজনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই কিশোরকে (১৫) আটক করে পুলিশ। তারা ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এ ছাড়া আবদাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. সিয়ামকে (১৯) হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানিয়েছে পুলিশ ।
শনিবার মধ্যরাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এতে তুহিন ও দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার দেখানো কথা সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
আসামিরা মাথায় আঘাত করে অপ্রতিমকে হত্যা করে বর্ণনা করে পুলিশ সুপার বলেন, “তাদের মধ্যে অসম বন্ধুত্ব ছিল। অর্থাৎ অপ্রতিম ক্লাস সেভেনে পড়ত, কিন্তু যারা তার বন্ধু তারা তার সহপাঠী ছিল না। এরা বয়সে তার চেয়ে বড় ছিল এবং বখাটে ছিল।
তিনি বলেন, “আমরা ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছি। মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। এবং যে আইফোনটির কারণে হত্যাকাণ্ড, সেই আইফোনটিও আমরা আসামি তুহিনের দেখানো মতে তার বাসা থেকে উদ্ধার করেছি।”
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “ঘটনার দিন (শুক্রবার) বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে শালবন নামক স্থানে চারপাশে পাহাড় ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতিমের আইফোনটি তিনজন মিলে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অপ্রতিম তাতে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
“এর মধ্যে প্রথমে তুহিন, পরবর্তীতে সঙ্গে থাকা দুই কিশোর বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। একপর্যায়ে অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে তিনজন। এরপর তুহিন অপ্রতিমের আইফোনটি নেয় এবং বাকি দুই কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।”
এ ছাড়া সিয়াম নামে আরেক কলেজ ছাত্রকে আটকের তথ্য দিয়ে আনিসুজ্জামান বলেন, “তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুতই পুলিশ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।