রাবি ছাত্রীর লাশ উদ্ধার, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি সহপাঠী-শিক্ষকের

মাত্র আড়াই মাস আগে বিয়ে হয়েছিল ছন্দা রায়ের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Sept 2022, 11:21 AM
Updated : 27 Sept 2022, 11:21 AM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছন্দা রায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার সহপাঠী ও বিভাগের শিক্ষকেরা। 

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের সামনে এক মানববন্ধনে তারা এই দাবি জানান। 

ছন্দা রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ৮ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক উত্তম কুমারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। 

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মুগদার মানিকনগর এলাকার বাসা থেকে ছন্দার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

পুলিশ জানিয়েছে, দুপুরের পর থেকেই ছন্দার স্বামী তাকে ফোনে পাচ্ছিলেন না। এ কারণে তিনি বাসায় আসেন এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ছন্দার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে, তারা এসে লাশ উদ্ধার করে। 

মানববন্ধনে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন,“ছন্দা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছে। তার অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব একটা খারাপ ছিল না। এ বয়সে এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো কারণ নেই। সদ্য বিয়ে করা একটা মেয়ে কোনো অবস্থাতেই আত্মহত্যা করতে পারেন না।” 

“নিশ্চয়ই এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে। আমরা তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এর পেছনে জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচার আশা করছি।” 

ছন্দার সহপাঠী জাবেদুল ইসলাম মনি জানান, বন্ধু-বান্ধবরা ঢাকা মেডিকেল কলেজে গিয়ে ছন্দার লাশ দেখেছে। একজন আত্মহত্যাকারীর লাশ দেখে যেমনটা মনে হয় লাশ দেখে তেমনটা মনে হয়নি। মনে হয়েছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে ছন্দা তার পরিবারকে জানিয়েছে, তার বিবাহিত জীবন ভালো যাচ্ছে না।

মানববন্ধনে বিভাগের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও সহপাঠী উপস্থিত ছিলেন। 

এ ব্যাপারে মুগদা থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন,“আমরা ছন্দার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। তবে এর আগে ছন্দার স্বামী উত্তম কুমার ও বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী দরজা ভাঙেন। ঘটনাস্থলে একটি হাতে লেখা চিরকুটও পেয়েছি; যেখানে লেখা আছে ‘আমার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী’। এ ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক