Published : 12 May 2026, 05:56 PM
সাভারে মডেল মসজিদ ও প্রস্তাবিত উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর এবং দখলচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
সীমানা প্রাচীর ভাঙতে হকাররা পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহারের করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
এ ঘটনায় সোমবার সাভার মডেল থানায় মামলা করেন বাগধনিয়া ভূমি কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. জয়দুল হোসেন।
১৪০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাভার মডেল থানার ছোট বলিমেহের মৌজায় সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত দুই একর ১৭ শতাংশ জমিতে টিনের সীমানা প্রাচীর ছিল। সোমবার দুপুরে ১৪০ থেকে ১৫০ জন হকার সেখানে গিয়ে প্রায় ১০০ ফুট টিনের প্রাচীর ভেঙে নিয়ে যান। এতে সরকারের প্রায় আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. জয়দুল হোসেন সহকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে হকাররা তাদের ওপর চড়াও হন এবং গালিগালাজ করেন। তারা হুমকি দিয়ে বলেন, ওই জমিতে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাবেন এবং বাধা দিলে বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে।
পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফুটপাত ও মহাসড়ক দখল করে ব্যবসা করা হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। এরপর তারা বিকল্প জায়গা হিসেবে সরকারি জমিতে বসার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ওই জমিতে মডেল মসজিদ, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও প্রস্তাবিত উপজেলা ভূমি কার্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, রোববার গভীর রাতে সাভার পৌরসভার একটি বুলডোজার দিয়ে টিনের প্রাচীর ভাঙা হয়। প্রাচীর সরানোর পর সেখানে হকাররা দোকান বসান।
বুলডোজারের দায়িত্বে থাকা সাভার পৌরসভার কনজারভেন্সি পরিদর্শক সেলিম আহম্মেদ বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী জাহিদুল ইসলামের নির্দেশে রোববার রাতে বুলডোজার সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তবে বিষয়টি পৌর প্রশাসককে জানানো হয়নি।
যদিও জাহিদুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, সরকারি জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙার ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি বুলডোজার ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কনজারভেন্সি পরিদর্শক সেলিম আহম্মেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
মামলায় ঘটনার সময় সোমবার দুপুর বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিষয়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. জয়দুল হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, “মামলার পর টিন উদ্ধারে আমাদের পুলিশ সদস্যরা অভিযান শুরু করেছেন।”