Published : 30 Nov 2025, 05:58 PM
টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলীগ জামায়াতের বাংলাদেশ শুরায়ে নেজামের অধীনে চলমান জোড় ইজতেমার তৃতীয় দিনে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে জোড় ইজতেমার মাঠে তিনদিনে পাঁচজন মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন শুরায়ে নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।
মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, আবুল আসাদ বাদল (৬২) ও মঈন উদ্দিন (১০০)।
এর মধ্যে শতবর্ষী মঈন উদ্দিন সরাইল উপজেলার কোট্টাপাড়া এলাকায় নাজির উদ্দিনের ছেলে। রোববার ভোর পৌনে ৫টার দিকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠেই স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
আর আবুল আসাদ বাদল সিলেট সদর উপজেলার ভার্থখোলা এলাকার বাসিন্দা এবং আব্দুল জহিরের ছেলে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা হলে তাকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, ইজতেমা ময়দানে জানাজা শেষে দুজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার শুরু হয় তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ে নেজামের আয়োজনে পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমা।
প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে এই জোড় অনুষ্ঠিত হয়। এখানে তাবলিগের সাথীরা পুরো বছরের কাজের ‘কারগুজারি পেশ’ করেন ও মুরুব্বিদের থেকে ‘রাহবারি’ নেওয়ার সুযোগ পান।
হাবিবুল্লাহ রায়হান আরও বলেন, “পাঁচ দিনের এই জোড় তাবলীগ জামাতের সোনালি ঐতিহ্য। এখান থেকেই সারা বছরের কাজের সঠিক নকশা ও দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হয়।
“জোড় ইজতেমায় দাঈদের আমল, দাওয়াত, তরতিব এবং দেশের প্রেক্ষাপটে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান উপস্থাপন করেন মুরুব্বীরা। যা একজন সাথীর দুনিয়া ও আখেরাতের জিন্দেগি পরিচালনায় দিশা দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “জোড় ইজতেমায় কেবল তিন চিল্লার সাথী ও কমপক্ষে ১ চিল্লা সময় লাগানো আলেমরা অংশ নিতে পারেন। এতে জোড়ের স্বতন্ত্র মর্যাদা ও গুরুত্ব বজায় থাকে।”
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এই জোড় ইজতেমা শেষ হবে বলেও জানান তিনি।