Published : 21 Dec 2025, 10:11 PM
সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় সদস্যের মধ্যে কিশোরগঞ্জের জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
রোববার বিকালে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায় জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামে সামরিক মর্যাদায় তাকে দাফন সম্পন্ন হয়।
জাহাঙ্গীরের লাশ পৌঁছার পর এলাকাজুড়ে নামে শোকের ছায়া। ওই গ্রামের মো. হযরত আলী ও মা পালিমা বেগম দম্পতির তিন ছেলের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন জাহাঙ্গীর (৩০)।
এদিন সকালে ঢাকার সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে জাহাঙ্গীরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সামরিক হেলিকপ্টারে করে তার মৃতদেহ পাঠানো হয় কিশোরগঞ্জে। বিকাল সোয়া ৪টার দিকে পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণ করে।
সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে জাহাঙ্গীরের মৃতদেহ জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামে নেওয়া হয়। পরে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক গোরস্তানে তাকে দাফন সম্পন্ন হয়।
জানাজায় সেনাবাহিনীর কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর নিয়াজ মাখদুম, পাকুন্দিয়া সেনা ক্যাম্পের ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা আবির আহমেদ, পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোড়ল, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
জাহাঙ্গীর সেনাবাহিনীতে মেস ওয়েটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী রুবাইয়া আক্তার ও তিন বছর বয়সি একমাত্র ছেলে ইরফানকে রেখে ঘটনার এক মাস সাত দিন আগে সুদান যান তিনি।
এর আগে শনিবার বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে নিহত শান্তিরক্ষীদের কফিন বহনকারী বিমান শাহাজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি নিহত এবং আটজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীরও ছিলেন।
সুদানে নিহত শান্তিরক্ষী: মায়ের আহাজারি, 'আমার জাহাঙ্গীররে এনে দাও