Published : 10 Sep 2025, 05:48 PM
নোয়াখালীতে দোকান উচ্ছেদ করে খননের জন্য প্রস্তুত করা খাল ভরাট করে পৌরসভা যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। যাত্রী ছাউনি নির্মাণের নামে জায়গা দখল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উচ্ছেদের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের।
বুধবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলার সোনাপুর-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সড়কে মানববন্ধন করে এই অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সোনাপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা।
মানববন্ধনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বাদল বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল খননের উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালে সোনাপুর জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্ব দক্ষিণ দিকে শতাধিক দোকান ভেঙে দেয় জেলা প্রশাসন। বৃহত্তর স্বার্থে ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের সে উদ্যোগে সহযোগিতা করে।
“কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। উলটো উদ্ধার করা খালি জায়গা যে যার মতো করে দখল করল। এখন দেখছি খোদ নোয়াখালী পৌরসভা যাত্রী ছাউনি নির্মাণের নামে বালি ফেলে খাল ভরাট করছে।
যাত্রী ছাউনির নামে আসলে কি হচ্ছে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, বলেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, যাত্রী ছাউনি নির্মাণের নামে নোয়াখালী পৌরসভার সচিবসহ একটি অসাধু চক্র খালি জায়গা দখলের চক্রান্ত করছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন না করে নতুন দখলদারিত্ব বন্ধ করার দাবি জানান তারা।

সোনাপুর কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস আব্দুজ্জাহের হারুন বলেন, “যাত্রী ছাউনির আড়ালে একটি চক্র মূলত জায়গা দখলের পাঁয়তারা করছে। তারা খাল ভরাট করে ঘর করে টাকা নিয়ে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন মিহির বলেন, “যাত্রী ছাউনি কিংবা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো কাজে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু যাত্রী ছাউনি সামনে রেখে জায়গা দখল মেনে নেওয়া হবে না।”
ক্ষতিগ্রস্ত আরেক ব্যবসায়ী ইফতেখার হোসেন ইফতু বলেন, “খাল ভরাট করে যদি যাত্রী ছাউনিই করা হয়, তাহলে একই সারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করতে অসুবিধা কোথায়। আমরা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছি।”
এ বিষয়ে নোয়াখালী পৌরসভার সচিব মো. আলাউদ্দিন বলেন, “ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সত্য নয়। সোনাপুর জিরো পয়েন্টে সড়কের পাশে খাল পাড়ের কিছু অংশে জনস্বার্থে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করছে পৌরসভা।”
এ নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছে তারা নিজেরাই সরকারি জায়গায় দখল করতে চায় বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বেলাল আহম্মেদ খান বলেন, “আমরা খালের কোনো অংশ ভরাট করিনি, সেখানে ময়লা ডাম্পিং করা হত, তার কিছু অংশে বালু ফেলে যাত্রী ছাউনি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকের ধারণা সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করা হবে, তবে আমি নিশ্চিত করতে পারি সেখানে ২২ ফিট দীর্ঘ ১২ ফিট চওড়া যাত্রী ছাউনি ছাড়া আর কোনো স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে না।”