Published : 18 Mar 2026, 04:58 PM
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড ও দুই রোগীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে পৃথক কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার জেলা প্রশাসনের পক্ষে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট ও হাসপাতাল থেকে ছয় সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন।
তিনি বলেন, “যে দুই জন রোগী মারা গেছে, তাদের আগুনের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। তবুও বিষয়টি গুরত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তারা কিভাবে মারা গেছে বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
জেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রধান হচ্ছেন বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা)। কমিটির সদস্যরা হলেন- ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক, হাসপাতালের উপ-পরিচালক, ডেপুটি সিভিল সার্জন ও গণপূর্ত অধিপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী।
কমিটির কার্য পরিধির মধ্যে রয়েছে সংগঠিত অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও কারণ উদঘাটন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন, দুর্ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত কিংবা পেশাদার দায়-দায়িত্ব আছে কিনা তা উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সুপারিশ।
কমিটিকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (উপ-পরিচালক) ডা. একেএম নজমুল আহসান গঠিত তদন্ত কমিটিতে আছেন- মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফজলে রহমান খান ও সদস্য সচিব সার্জারী বিভাগের আরএস ইখতিয়ার হোসেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বরিশাল জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক, পুলিশের প্রতিনিধি ও গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী।
এ কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের পাঁচ তলার বিছানার ফোম রাখার স্টোর রুমে আগুন লাগে।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসপাতালের স্টাফ ও ভর্তি রোগীরা বলেন, আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভবনটির বিভিন্ন তলায় থাকায় রোগী, স্বজন, হাসপাতালের স্টাফ, নার্স ও চিকিৎসকসহ সবাই হুড়োহুড়ি শুরু করে নিচে নামেন। যে যেভাবে পারেন রোগীকে নিয়ে ভবনের বাইরে সড়কে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবুজর গিফারী বলেন, রাত ১১টার সময় হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের পাঁচতলায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সেখানে যায় তাদের তিনটি ইউনিট। ১০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। পুরোপুরি নেভাতে ৪০ মিনিট লেগেছে। কক্ষে ফোম, বিছানার চাদর ও বালিশ থাকায় ব্যাপক ধোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।
পরে স্টোর রুমের কাছের ওয়ার্ডে থাকা দুই রোগীর মারা যাওয়ার তথ্য দেন তাদের স্বজনরা।
তারা হলেন- পটুয়াখালী সদরের বরপুরের বাসিন্দা কাজী আতাউর রহমান (৮০) এবং নগরীর বারৈজ্জার হাটের এলাকার আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫)।
এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভাণ্ডার) ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর পুরোটা সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম। হাসপাতালের কর্মচারীরা চিকিৎসাধীন ১৪৮ জন রোগীকে নিরাপদে স্থানান্তর করেছে।
তিনি বলেন, “বার্ধক্যজনিত কারণে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। সেটা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়। তাদের স্বজনরা নিজেরা নামিয়ে পুরাতন ভবনের আনার পর মৃত্যু হয়েছে।”
আগের সংবাদ