Published : 06 Jan 2026, 08:37 PM
গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ সড়ক বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের ১৮ দিন পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে দুদক। তবে ঘটনার পর থেকে তারা কারাগারে আছেন।
রোববার দুদকের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোহরাব হোসেন সোহেল বাদী হয়ে মামলাটি করলেও মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
আসামিরা হলেন- গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগে উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম (৩৩), শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন মোশারফ হোসেন (৬০) এবং প্রাইভেট কার চালক মনির হোসেন বেপারী (৪০)।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ১৭ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পুলিশ লাইন্স মোড়ে নিয়মিত তল্লাশির সময় একটি প্রাইভেট কার থামায় পুলিশ। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা দুটি ব্যাগ থেকে ১০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। একটি ব্যাগে ‘সার্কেল’ লেখা সাত লাখ টাকা এবং অন্য ব্যাগে ‘জোন’ লেখা তিন লাখ টাকা ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িতে থাকা পিয়ন মোশারফ হোসেন অসংলগ্ন কথা বললে সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে পুলিশ গাড়ি ও টাকা জব্দ করে পিয়ন ও চালককে আটক করে তাদের সদর থানায় নিয়ে যায়। টাকাগুলো গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলামকে দেওয়ার উদ্দেশে বহন করছিলেন বলে দাবি করেন তারা।
পরে পুলিশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে সাজ্জাদুলকে আটক করে পরদিন তিনজনকে ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
পরবর্তীতে দুদকের মামলায় ওই তিনজনকে গ্রেপ্তারের অনুমতির জন্য রোববার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তারের অনুমোদন দেয় আদালত।
সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের একটি কাজের দরপত্র অনুমোদনের জন্য ওই টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেল ও জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশে আনা হয়েছিল।
টাকার খামের ওপর ‘সার্কেল’ লেখা থাকায় বিষয়টি আরও সন্দেহজনক। গ্রেপ্তাররা মূলত টাকা বহনকারী ছিলেন। তবে যাদের উদ্দেশে টাকা আনা হয়েছিল, তারা কেন আইনের আওতায় আসছেন না, সেই প্রশ্ন সবার।