২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

অক্টোবরে পাহাড় ভ্রমণে প্রশাসনের ‘না’

রোববার বিকালে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাঙামাটি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, বান্দরবান প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Oct 2024, 06:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:36 AM

‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে পাহাড়ে অক্টোবর মাসে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকার জন্য পর্যটকদের অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।  

রোববার বিকালে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে।  

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, “সার্বিক পরিস্থিতি এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ৮ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাঙামাটিতে পর্যটকদের ভ্রমণ না করার জন্য আমরা আহ্বান করছি। পর্যটকদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। 

“আশা করছি, এই সময়ের মধ্যে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং এরপর পর্যটকরা রাঙামাটি ভ্রমণ করতে পারবেন।”

২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করে আসছে জেলা প্রশাসন। তিন দফায় তিন দিন করে মোট নয় দিন বাড়ানো হয়েছে এই আদেশ। ৪ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছে জেলা প্রশাসন। এবার পুরো রাঙামাটি ভ্রমণে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

এদিকে খাগড়াছড়িতে ২ থেকে ৪ অক্টোবর পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছে জেলা প্রশাসন। এবার সেটা আরও বাড়ানো হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বলেন, “আগামী ২৩ দিন পর্যটকদের খাগড়াছড়ির সব পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হলো। পাহাড়ের চলমান পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

‘পাহাড়ি-বাঙালি’ সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৯ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর খাগড়াছড়ি জেলা সদর, দীঘিনালায় সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে সহিংসতা হয় রাঙামাটিতেও। এসব ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশন ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি করেছে। 

এদিকে লিখিত আদেশ জারি না করলেও সাংবাদিকদের কাছে পর্যটক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন।

বার্তায় তিনি বলেন, “অনিবার্য কারণবশত পর্যটকদের ৮ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হল।”

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার এই আদেশ কেবল বান্দরবান নয়, তিন পার্বত্য জেলাতেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

এদিকে পাহাড়ে সশস্ত্র সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে বান্দরবানে তিন উপজেলা রোয়াংছড়ি, রুমা ও রোয়াংছড়িতে ২০২২ সাল থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আরও পড়ুন:

অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাজেক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করছে প্রশাসন