Published : 12 Nov 2025, 03:07 PM
দেশের সর্বউত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে বাড়ছে শীতের আমেজ। প্রতিনিয়ত তাপমাত্রা কমার সঙ্গে ঝরছে কুয়াশা। সকাল-সন্ধ্যায় বইছে হিমেল হাওয়া, মাঠ-ঘাটে পড়ছে শিশিরের ছোঁয়া। চলতি মৌসুমে এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
বুধবার সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার এই তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে প্রায় দুই ডিগ্রি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমছে। নভেম্বরের শেষ দিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ডিসেম্বরজুড়ে পঞ্চগড় ও আশপাশের এলাকায় একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সন্ধ্যা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকবে চারপাশ। কোথাও কোথাও দিনের বেলাও কুয়াশা দেখা যেতে পারে। কারণ বাতাসে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প রয়েছে। এর ফলে সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে ঠিকভাবে পৌঁছায় না, ফলে রাতে দ্রুত ঠান্ডা পড়ে এবং ভোরে কুয়াশা সৃষ্টি হয়।
এ ধরনের আবহাওয়া সাধারণত শীত ও গ্রীষ্মের মধ্যে দেখা যায়। তবে এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে জলবায়ুর পরিবর্তন।
আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, বর্তমানে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমছে। কয়েকদিন ধরে সকাল-বিকাল কুয়াশা দেখা গেলেও মঙ্গলবার কুয়াশার পরিমাণ কিছুটা কম ছিল। দিনে ঝলমলে রোদে তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও, সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত হিমেল হাওয়ায় বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার মোলানীপাড়া গ্রামের ইজিবাইক চালক আরিফ হোসেন বলেন, সকালে কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালালেও সামনের রাস্তা দেখা যায় না। এখন সকালে যাত্রীও তেমন পাওয়া যায় না।

বোদা উপজেলার মন্নাপাড়া গ্রামের মোটরসাইকেল চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “সকালে জরুরি কাজে বের হয়েছি, কিন্তু ঠান্ডায় হাত অবস হয়ে যাচ্ছে।”
একই উপজেলার নয়াদিঘী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা নুর নবী বলেন, “সকালে খুব ঠান্ডা লাগে। শীতের কাপড় না পরলে বাইরে বের হওয়া যায় না।”
পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আবু সায়েম বলেন, ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন।