Published : 21 Sep 2025, 05:15 PM
কিশোরগঞ্জে জেলা বিএনপির দীর্ঘ ৯ বছর পর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতি পদে মো. শরীফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক পদে মাজহারুল ইসলাম পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।
শনিবার রাত ২টার দিকে ভোটের এই ফল ঘোষণা করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে বলে জানিয়েছেন সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন ১৩টি উপজেলা ও ৮টি পৌর কমিটির মোট ২ হাজার ৯০ জন কাউন্সিলর। ভোটে সভাপতি পদে দুইজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে সভাপতি পদে মো. শরীফুল আলম ১ হাজার ৫২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুহুল হোসাইন পেয়েছেন ১৯৭ ভোট। এ পদে বাতিল হয়েছে ১২০ ভোট।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে মাজহারুল ইসলাম ১ হাজার ১৫৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল পেয়েছেন ৬১১ ভোট। অপর দুই প্রার্থী শফিকুল আলম রাজন ৩০টি এবং সাজ্জাদুল হক ৭টি ভোট পেয়েছেন। এ পদে বাতিল হয়েছে ৩৩টি ভোট।
২০১৬ সালে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ত্রিবার্ষিক সম্মেলনেও ঐক্যমতের ভিত্তিতে মো. শরীফুল আলমকে সভাপতি ও মাজহারুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটি আর কোনো সম্মেলন করতে পারেনি।
দীর্ঘ ৯ বছর পর শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, আবু ওয়াহাব আকন্দ।
দীর্ঘদিন পর বিএনপির কাউন্সিলকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো। সম্মেলনের সফলতা কামনা করে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তার উপরে বানানো হয়েছিল শত শত তোরণ। সেই সঙ্গে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো শহর।