বগুড়ায় সংসদ সদস্য রেজাউলের ওপর হামলা

উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকসহ যুবলীগের ৪/৫ জন নেতা হঠাৎ করে তার ওপর চড়াও হয় বলে জানান এমপি রেজাউল।

বগুড়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Sept 2022, 02:38 PM
Updated : 21 Sept 2022, 02:38 PM

বগুড়ার-৭ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে।  

বুধবার সকালে শাজাহানপুর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান রেজাউল করিম বাবলু।

এ সময় এই সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মো. সেলিম রেজা মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা জানান, বুধবার সকাল পৌনে ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সংলগ্ন হলরুমে উপজেলা পরিষদের আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভা শুরু হয়।

এর প্রায় ১৫ মিনিট পর বাইরে হট্টগোল শুরু হলে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নুসহ অনেকে বের হয়ে দেখেন সংসদ সদস্য বাবলু এবং তার ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে যুবলীগ নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি ও মারপিট হচ্ছে।

সংসদ সদস্য রেজাউল বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি দীর্ঘদিন কোনো সভায় উপস্থিত হতে পারেননি। বুধবার আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভায় অংশ নিতে তিনি উপজেলা পরিষদে যান। তবে তিনি পৌঁছানোর আগেই সভা শুরু হয়ে যায়।

তখন তিনি ইউএনও আসিফ আহমেদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার কার্যালয়ের দরজার সামনে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ব্যক্তিগত সহকারী রেজা এবং গাড়ি চালকসহ কয়েকজন তার সঙ্গে ছিলেন।

রেজাউল আরও বলেন, সকাল ১০টায় উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলমগীরসহ যুবলীগের ৪/৫ জন নেতা হঠাৎ করে ইউএনওর দরজার সামনে এসে তার ওপর চড়াও হন।

তিনি বলেন, “সঙ্গে থাকা লোকজন যখন আমাকে রক্ষার চেষ্টা চালায় তখন যুবলীগ নেতা বাদশা আলমগীর রড দিয়ে আমার ব্যক্তিগত সহকারীর মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে যায়। এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু এসে আমাকে ধাক্কা দেয়।

“খবর পেয়ে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং আহত সেলিম রেজাকে হাসপাতালে পাঠায়।

“আমি একজন সংসদ সদস্য। উপজেলা পরিষদে আমার ওপর হামলা চালানো হলো, কিন্তু তারপরও নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে দেখতে আসলেন না, খোঁজও নিলেন না।”

বিষয়টি জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব হোসেন ছান্নু বলেন, “এমপির সঙ্গে আমার কিছুই হয়নি। উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে এমপির পিএসের ঝামেলা ছিল; সেটা নিয়ে একটা হট্টগোল হয়েছে মাত্র।”

ঘটনার এক পর্যায়ে এমপি তার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র হাতে নেন বলেও জানান ছান্নু।

শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলমগীর এমপি বাবলু কিংবা তার পিএসের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কাবিখার কাজ নিয়ে ঝামেলা ছিল। সেটা নিয়েই কথা হয়েছে।  এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু সেখানে এলে এমপি তার কোমরে থাকা রিভলবার বের করে গুলি করার হুমকি দেন।

“এ সময় সঙ্গে থাকা যুবলীগের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে তিনি পিস্তল লুকিয়ে ফেলেন।”

পিস্তল বের করে হুমকি দেওয়া নিয়ে সংসদ সদস্য বাবলু বলেন, “আমি আত্মরক্ষার্থে আমার লাইসেন্স করা পিস্তল বের করেছিলাম। কারণ, আমার ব্যক্তিগত সহকারীকে রড দিয়ে আঘাতের পর আমার উপরও চড়াও হয়।

“সরকার আমাকে আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্স দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই পিস্তল রক্ষাও আমার কর্তব্য। কারণ, যদি ওটা ছিনিয়ে নিয়ে কোনো অঘটন ঘটায়?”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আহাম্মেদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি ফোন ধরেননি।

শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ওই ঘটনায় এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক