Published : 13 Mar 2026, 04:59 PM
ব্যালট পেপারে ত্রুটির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনের ভোট গণনা স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মালেক ভোট গ্রহণ স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে এক প্রার্থী এ সিদ্ধান্তকে বিধিবহির্ভূত বলে দাবি করেছেন।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির মোট ৬৮৯ ভোটারের মধ্যে ৬৫৪ জন ভোট দেন।
সন্ধ্যায় ভোট গণনা শুরু হলে ব্যালট পেপার ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগ তুলে কয়েকজন প্রার্থী আপত্তি জানান।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মালেক বলেন, “সারাদিন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা প্রায় ২০০ ভোট গণনাও করেছি।
“তবে একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় ভোট গণনা স্থগিত করা হয়েছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জজ কোটের সিনিয়র আইনজীবী শরিফুল ইসলাম বলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর চন্দ্র ঘোষ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের ব্যালট ও মুড়িতে একই ক্রমিক নম্বর দেওয়া হয়েছে। এতে কোন আইনজীবী কাকে ভোট দিয়েছেন তা শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। তাই তিনি নির্বাচন ও ভোট গণনা স্থগিতের আবেদন জানান।
এদিকে ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্যানেলের’ সভাপতি প্রার্থী আব্দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আনিসুর রহমানও মৌখিকভাবে একই আবেদন করেন।
এর প্রেক্ষিতে আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোট গণনা স্থগিত ঘোষণা করেন বলে আইনজীবী শরিফুল ইসলাম জানান।
জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান এবং জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান বাবুল।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন মো. ইউসুফ কবীর ফারুক, মো. ফরহাদ আহমেদ, শামসুল হক ও সুধীর চন্দ্র ঘোষ। সহ-সভাপতি পদে আব্দুল হাকিম ও মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন সরকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান, এ কে এম আব্দুল হাই, সৈয়দ তারেক আলী, মুখলেছুর রহমান, মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ও মোহাম্মদ বশির আহমেদ খান প্রার্থী ছিলেন।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন মো. আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ আবু ইউসুফ ও দিলশাদ ইয়াসমিন; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-২ পদে মো. জাকির হোসাইন ও মোশারফ হোসেন।
সম্পাদক (পাঠাগার ও ব্যবস্থাপনা) পদে প্রার্থী ছিলেন মো. ইমরান হোসাইন ও মো. জসিম উদ্দিন। সম্পাদক (তথ্য ও প্রযুক্তি) পদে আবু সালে মো. ফাহাদ ও এস এম জিবরিয়া এবং সম্পাদক (কল্যাণ ও সংস্কৃতি) পদে কামরুল হাসান ও মোহসিন উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে ইয়াসমিন বেগম ও মোছা. আফরোজা বেগম এবং অডিটর পদে মোহাম্মদ এম এ মামুন ও মীর মোহাম্মদ রাইসুল আহমেদ প্রার্থী ছিলেন।
এছাড়া সদস্য পদে আল আমিন, ফোরকান উদ্দিন, মিজানুল হক, মোহাম্মদুল্লাহ, মো. রেজাউল করিম ও শওকত আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সভাপতি পদের প্রার্থী মফিজুর রহমান বলেন, “কোনো সমস্যা ছিল না। ভোট গণনা অবস্থায় তা স্থগিত করেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এটা বিধি বিধানের বাইরে।”