Published : 10 Mar 2026, 03:33 PM
বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় অবরোধে মহাসড়কটির উভয় পাশে অন্তত ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. রুহুল আমিন।
উপজেলার হাড়িখোলা মাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এই বিক্ষোভকারীরা বেলাশহর এলাকার ‘ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেড’ নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক।
আন্দোলনরত একাধিক শ্রমিক জানান, দুই মাস ধরে তাঁদের বেতন দিচ্ছে না মালিকপক্ষ। কারও ৩০ হাজার, কারও ৪০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া। এতে শ্রমিকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এ ছাড়া সামনে ঈদ, তাই আজ বাধ্য হয়ে তারা মহাসড়কে নেমেছেন।
তাদের অবরোধের কারণে ঢাকাগামী ও চট্টগ্রামমুখী সব যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উভয়মুখী লেনে শুরু হয় তীব্র যানজট।
একপর্যায়ে উপজেলার কুটম্বপুর থেকে নুড়িতলা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে যায়।
এর আগেও বিভিন্ন সময় ওই পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। গত বছরের ঈদের আগেও একই চিত্র দেখা যায়।
কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী একটি পরিবহনের বাসচালক বেলাল হোসেন বলেন, “প্রতিবছরই কয়েকবার ওই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। আজও একই ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায় করা হচ্ছে।”
খবর পেয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল ইসলাম, চান্দিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান, ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।
দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা ও বোনাস দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে যান।
পরে বেলা ১১টার দিকে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. রুহুল আমিন বলেন, শ্রমিকদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তারা শিগগিরই বেতন-বোনাস পাবেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই দিকেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক, তবে ধীরগতি রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা শ্রমিকদের বলেছি, বৃহস্পতিবারের মধ্যে জানুয়ারি মাসের বেতন পাবেন তারা। আর ১৬ মার্চের মধ্যেই ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস পাবেন। একটি মহল ইন্ধন দিয়ে শ্রমিকদের ব্যবহার করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।”