০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্যাস সংকটে বিদেশি ক্রেতারা পার্শ্ববর্তী দেশের দিকে ঝুঁকছেন: বিকেএমইএ

গণপরিবহন ছাড়া সিএনজি সরবরাহ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

গ্যাস সংকটে বিদেশি ক্রেতারা পার্শ্ববর্তী দেশের দিকে ঝুঁকছেন: বিকেএমইএ
নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএয়ের প্রধান কার্যালয়ে গ্যাসের সংকট ও শিল্পখাতে এর প্রভাব নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Aug 2026, 09:39 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:30 PM

চলমান গ্যাসের সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গণপরিবহন ছাড়া অন্য পরিবহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন নিট পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে গ্যাসের সংকট ও শিল্পখাতে এর প্রভাব নিয়ে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গ্যাসের সংকটে শিল্প কারখানাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

“এক মাসে অন্তত ৪০ শতাংশ রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সময়মতো পণ্য পাবেন না শঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারাও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।”

এ সময় বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কিছু দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেন হাতেম।

জুন ও জুলাইয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধে ১২ মাসের কিস্তির ব্যবস্থা, বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সংযোগ বিচ্ছিন্নে বিরত থাকা, গণপরিবহন ছাড়া অন্য যানবাহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখা, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানান বিকেএমইএ সভাপতি।

এমন পরিস্থিতিতে কারখানা মালিকরা ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও তাদের ‘ক্ল্যাসিফাইড’ হিসেবে চিহ্নিত না করার দাবি জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “যতদিন পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হবে ততদিন পর্যন্ত এ বিষয়ে যেন ব্যাংক বিরত থাকে। অন্তত ছয় মাসের জন্য এই সুবিধা দেওয়ার দাবি জানাই।”

গ্যাসের সংকটের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

হাতেম বলেন, “আমরা আসলে অন্ধকারে আছি। এই সংকট কবে সমাধান হবে সেই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো দিক-নির্দেশনা পাচ্ছি না। এ কারণে বিভিন্ন রকমের গুজব ছড়াচ্ছে।”

গ্যাসের সংকট বহুদিনের হলেও ২০ জুলাই থেকে তা তীব্র হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “গ্যাসের চাপ জিরো হয়ে যাওয়ায় কোনো কোনো এলাকায় সম্পূর্ণরূপে উৎপাদন বন্ধ। এমন অবস্থায় অন্তত ৩০০ কারখানা রয়েছে। চলতি মাসে এই সংকটের সমাধান হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

“ফলে বিদ্যমান রপ্তানি আদেশ শিপমেন্ট করতে পারছি না। এতে বিদেশি ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে। অর্ডারগুলো পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে শিফট হয়ে যাবার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী সিজনের বেশকিছু রপ্তানি আদেশ ক্রেতারা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, “ভবিষ্যতে শিল্পখাত গ্যাসের উপরই নির্ভরশীল থাকবে নাকি অন্য কোনো জ্বালানির ব্যাপারে যাব কিনা সেই দিক-নির্দেশনা তারাই দেবেন।”

সংবাদ সম্মেলনে বিজেএমইএয়ের সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, বর্তমান নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অমল পোদ্দার এবং সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল উপস্থিত ছিলেন।