Published : 12 Mar 2026, 12:02 PM
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
হামলার সময় তার কাছ থেকে ভিজিএফ কার্ডের তালিকা ছিনতাই করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
দুর্গাপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, বুধবার বিকালে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে তাকে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলী।
আজাদ আলী (৬২) নওপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং একই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর ওই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিকে বরখাস্ত করা হয়।
পরে প্রশাসনিক আদেশে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে আজাদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, বুধবার বিকালে মোটরসাইকেলে শ্যামপুর বাজার হয়ে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন আজাদ আলী। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা একজন সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তার পথরোধ করেন।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করেন। একপর্যায়ে নিজেকে রক্ষা করতে মোটরসাইকেল ফেলে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন তিনি।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলীর অভিযোগ, একই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা তাকে মারধর করে এবং ভিজিএফ কার্ডের তালিকাসহ পরিষদের দাপ্তরিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়।
নওপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম ও বিএনপি নেতা আফাজ আলী তার পথরোধ করে হামলা চালান।
তবে সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম হামলার ঘটনা স্বীকার করলেও দাবি করেন, ভিজিএফ কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। এ কারণেই তাকে মারধর করা হয়েছে।
তবে আজাদ আলী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা দাবি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং রেজাউল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি ২৪০ জনের একটি তালিকা তাকে দিয়েছিলেন। সেই তালিকা অনুযায়ী কার্ড দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশতুরা আমিনা বলেন, “ঘটনার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অবহিত করেছেন। তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের যে সব কাগজপত্র ছিনতাই হয়েছে সেগুলো উদ্ধারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
দুর্গাপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বলেন ওসি।